ভ্যাপসা গরমে ঘামের দুর্গন্ধ? মুক্তি পেতে খাদ্যাভ্যাসে এসব বদল আনুন, জেনেনিন

ভ্যাপসা গরমে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত প্রায় সকলেরই হাঁসফাঁস অবস্থা। প্যাচপ্যাচে গরমে রাস্তাঘাটে, ভিড় বাসে, ট্রামে ঘামের দুর্গন্ধে টেকা দায়। গুমোট আবহাওয়ায় শরীরে এত বেশি ঘাম হয় যে, মাঝে মাঝে এই ঘামের দুর্গন্ধ অসহ্যকর হয়ে ওঠে। ভিড় ট্রামে, বাসে ঝুলতে ঝুলতে ঘেমে-নেয়ে অফিসে পৌঁছালেও ঘামের দুর্গন্ধের চোটে অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে হয় অনেককেই।

তবে কারও কারও শরীরে ঘামে যেন একটু বেশিই দুর্গন্ধ হয়। বাজার চলতি নানা রকম বডিস্প্রে, রোল অন জাতীয় সুগন্ধি ব্যবহার করেও খুব বেশি ক্ষণ নিশ্চিন্তে থাকা যায় না। তবে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে সামান্য কিছু পরিবর্তন আনতে পারলে সহজেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আসুন এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক…

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের খাদ্যাভ্যাসের সরাসরি প্রভাব পড়ে শরীরের ঘামের গন্ধের উপর। কিছু খাবার ঘামের দুর্গন্ধ বৃদ্ধি করতে পারে। তাই এই গরমে দুর্গন্ধমুক্ত থাকতে কিছু খাবার তালিকা থেকে বাদ দেওয়াই শ্রেয়।

১) জিরা ও মশলাযুক্ত খাবার: জিরা বা ওই জাতীয় মশলা শরীরে সালফার জাতীয় গ্যাস সৃষ্টি করে যা লোমকূপ এবং নিঃশ্বাসের সঙ্গে নির্গত হয়। ফলে শরীরে দুর্গন্ধও হয় বেশি। তাই এই ধরনের খাবার যতটা সম্ভব কম খাওয়াই ভালো।

২) পেঁয়াজ: পেঁয়াজের মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে সালফার জাতীয় উপাদান যা শরীরে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। পেঁয়াজ শরীরের পক্ষে উপকারী হলেও, মাত্রাতিরিক্ত দুর্গন্ধ কমাতে গ্রীষ্মকালে এটি কম খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

৩) রসুন: পেঁয়াজের মতো রসুনেও রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে সালফার জাতীয় উপাদান যা শরীরে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। রসুনে থাকা সালফার উপাদান রক্তে মেশে যা শরীরে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। এই দুর্গন্ধ লোমকূপ এবং নিঃশ্বাসের সঙ্গে নির্গত হয়। তাই শরীরের অতিরিক্ত দুর্গন্ধ কমাতে রসুন কম খাওয়াই ভালো।

৪) দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার: অতিরিক্ত মাত্রায় দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খেলে এর মধ্যে থাকা উপাদানগুলি ভেঙে হাইড্রোজেন সালফাইড এবং মিথাইল মারক্যাপশন তৈরি হয়। এই দুটি উপাদান শরীরে দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে। তাই উপকারী হলেও দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে না খাওয়াই উচিত।

৫) কৃত্রিম মিষ্টি ও চিনিযুক্ত খাবার: কৃত্রিম মিষ্টি, চকোলেট, ক্যান্ডি অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে শরীরে ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণও বাড়ে। একই সঙ্গে রক্তে ইস্টের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় শরীরে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়।

৬) শর্করা জাতীয় খাবার: অতিরিক্ত মাত্রায় শর্করা জাতীয় খাবার খেলে তা রক্তে ‘কিটোন বডি’ তৈরি করে যা শরীরে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। তাই ভাত, রুটি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করাই শ্রেয়।

৭) অ্যালকোহল: অ্যালকোহল শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর, এ কথা সকলেরই জানা। যারা অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যালকোহল পান করেন, তাদের ঘামের সঙ্গে মুখ থেকেও দুর্গন্ধ বের হয়। তাই এই অভ্যাস ত্যাগ করাই স্বাস্থ্যকর।

সুতরাং, ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তিকর ঘামের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পেতে হলে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কিছু পরিবর্তন আনা আবশ্যক। সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে আপনি সহজেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন এবং গ্রীষ্মের দিনগুলিতে সতেজ থাকতে পারেন।