ট্রাম্পের শান্তি চুক্তিতে অখুশি নেতানিয়াহু! ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে থমকে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ‘ঐতিহাসিক’ শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, বাস্তবে এর সুফল মিলছে না। লেবানন সীমান্তসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে, যা এই শান্তি প্রক্রিয়াকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
শান্তি চুক্তি বনাম ইসরায়েলি জেদ ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের শান্তি চুক্তিটিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একেবারেই মেনে নিতে পারছেন না। তার মতে, এই চুক্তি ইরানকে নতুন জীবন দিয়েছে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু যেকোনো মূল্যে হিজবুল্লাহকে নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর। ইরান সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, লেবাননের ওপর ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না হলে তারাও পাল্টা আঘাত হানবে। গত ১৯শে জুন কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। উভয় পক্ষের সংঘর্ষে লেবানন ও ইসরায়েলি সীমান্ত এলাকায় প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে এবং পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ‘অভ্যুত্থানের’ ইঙ্গিত? কূটনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে, ট্রাম্প প্রশাসন নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। শোনা যাচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসন বিকল্প নেতৃত্ব খুঁজছে এবং নাফতালি বেনেটের মতো বিরোধী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পর্দার আড়ালে মার্কিন হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত পাচ্ছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
‘উড়ন্ত হোয়াইট হাউস’: ট্রাম্পের নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নতুন বিমান। কাতার সরকারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া একটি বিলাসবহুল ‘বোয়িং ৭৪৭-৮’ জেটকে ট্রাম্প এখন তার নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ হিসেবে ব্যবহার করছেন। প্রায় ৩৪০০ কোটি টাকা (৪০০ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের এই বিমানটিকে ট্রাম্প ‘উড়ন্ত হোয়াইট হাউস’ বলে অভিহিত করেছেন। মার্কিন বিমানবাহিনী জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টাল মিশনের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পর এটি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে সেবা দেওয়া শুরু করেছে। ট্রাম্পের দাবি, আগামী মাসে তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে তিনি এই বিমানটিতে করেই সফর করবেন।