বিয়ে করতে চাইছেন? জেনে নিন ঠিক কোন বয়সে বিয়ে করলে ডিভোর্সের ঝুঁকি থাকে সবথেকে কম!

আমাদের সমাজে বিয়ের বয়স নিয়ে পরিবারের চাপ একটা চিরাচরিত সমস্যা। তবে বর্তমান যুগে কেরিয়ার, আর্থিক সচ্ছলতা এবং মানসিক পরিপক্কতার কথা ভেবে বিয়ের সংজ্ঞা অনেকটাই বদলেছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—আদৌ কি বিয়ের কোনো ‘পারফেক্ট’ বয়স আছে? সমাজবিজ্ঞানী এবং মনোবিদরা এই বিষয়ে কী বলছেন?

গবেষণা কী বলছে? (The ‘Goldilocks’ Age):
আমেরিকার উটাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ২৮ থেকে ৩২ বছর বয়সের মধ্যে বিয়ে করেন, তাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের হার সবচেয়ে কম। একে বলা হয় ‘গোল্ডিলকস পিরিয়ড’। কারণ এই বয়সে মানুষ যথেষ্ট পরিণত হয়, আবার নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মতো নমনীয়তাও তাদের মধ্যে থাকে।

বিয়ের বয়স নির্ধারণে যে ৩টি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি:

১. মানসিক পরিপক্কতা (Emotional Maturity):
বিয়ে মানে কেবল দুজন মানুষের একসাথে থাকা নয়, এটি দুটি পরিবারের মিলন এবং দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া। ২৫ বছরের পর মানুষের মস্তিষ্ক আবেগের চেয়ে যুক্তিতে বেশি কাজ করতে শুরু করে, যা দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

২. আর্থিক স্থিতিশীলতা:
বর্তমান বাজারে বিয়ের পর আর্থিক টানাপোড়েন দম্পতির মধ্যে কলহের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে নিজের পায়ে দাঁড়ানো এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় থাকা আত্মবিশ্বাস জোগায়।

৩. শরীর ও সন্তানধারণের পরিকল্পনা:
চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, মহিলাদের ক্ষেত্রে মা হওয়ার জন্য ২০-এর কোঠা বা ৩০-এর শুরু আদর্শ। বয়স ৩৫ পেরিয়ে গেলে প্রজনন ক্ষমতা কমতে শুরু করে এবং গর্ভধারণে জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই পরিবার পরিকল্পনা মাথায় রাখলে খুব দেরি করাও কাম্য নয়।

দেরিতে বিয়ের সুবিধা ও অসুবিধা:
দেরিতে বিয়ে করলে জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিচক্ষণতা বাড়ে, কিন্তু বয়সের সাথে সাথে মানুষের স্বভাব ও জেদ কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ে, যা নতুন সঙ্গীর সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

সিদ্ধান্ত আপনার:
আসলে বিয়ের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যাতত্ত্ব নেই। আপনি যখন মানসিকভাবে একজনকে নিজের জীবনে জায়গা দিতে প্রস্তুত এবং দুজনের দায়িত্ব নিতে সক্ষম—সেটিই আপনার জন্য বিয়ের সেরা সময়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy