মহিলাদের জীবনে পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যা প্রতিমাসেই ঘটতে থাকে। তবে, এই সময় মহিলাদের নানা শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, যেমন পেটের ব্যথা, ফোলাভাব, অলসতা, এবং বিশেষত পিঠের নিচের অংশে ব্যথা। পিরিয়ডের সময় পিঠের নিচে ব্যথা অনুভব করা অনেক মহিলার জন্য একটি সাধারণ সমস্যা হলেও, কিছু মহিলার কাছে এটি অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক এবং বিরক্তিকর হতে পারে। তবে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কিছু সহজ পদ্ধতি রয়েছে, যা আপনি অনুসরণ করতে পারেন।
পুষ্টিবিদ ড. সুচরিতা সেনগুপ্ত বলেন, “পিরিয়ডের সময় কোমরের তলপেটে ব্যথা একটি সাধারণ সমস্যা হলেও, অনেক মহিলার জন্য এটি অসহনীয় হতে পারে। তবে কিছু সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে এই ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।”
১. ব্যথানাশক ওষুধ
পিরিয়ডের সময় পিঠের ব্যথা হতে থাকলে, প্রথমেই আপনি ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন। এসব ওষুধ আপনার ব্যথা কমাতে এবং ফোলাভাব দূর করতে সাহায্য করবে। তবে, এগুলো সেবনের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
২. নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ
শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আপনি যদি নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ করেন, তাহলে পিঠের ব্যথা কমানোর পাশাপাশি আরও অনেক শারীরিক সমস্যা দূর করতে পারবেন। হালকা স্ট্রেচিং এবং যোগব্যায়াম যেমন ক্রিয়াকলাপ রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে সাহায্য করে এবং পিঠের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে সহায়তা করে।
৩. হিট থেরাপি
পিরিয়ডের সময় ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে হিট থেরাপি একটি কার্যকরী উপায় হতে পারে। পিঠের নিচের অংশে গরম জল বোতল বা হিটিং প্যাড ব্যবহার করলে টানটান পেশী শিথিল হতে পারে এবং ব্যথা কমে। এছাড়া উষ্ণ গরম জলে স্নান করলে পিঠের ব্যথা প্রশমিত হতে পারে।
৪. স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট
পিরিয়ডের সময় মানসিক চাপ পিঠের ব্যথাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এই সময় গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস, ধ্যান এবং মননশীলতার মতো ব্যায়াম করা আপনার পেশীর টান কমাতে সাহায্য করবে এবং মানসিক শান্তি ফিরিয়ে আনবে।
৫. সুষম খাদ্য
সুস্থ শরীরের জন্য সুষম খাদ্য অপরিহার্য। বিশেষ করে মহিলাদের জন্য সুষম খাদ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার খাদ্যতালিকায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করলে পিরিয়ডের সময় পিঠের ব্যথা এবং অন্যান্য উপসর্গ দূর হতে সাহায্য করবে।
শেষ কথা
পিরিয়ডের সময় পিঠে ব্যথা বা অন্যান্য উপসর্গের জন্য আশঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। উপরে উল্লেখিত পদ্ধতিগুলি অনুসরণ করলে আপনি সহজেই এই সমস্যাগুলি থেকে মুক্তি পেতে পারেন। তবে, যদি সমস্যা গুরুতর হয়, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।





