দরজায় কড়া নাড়ছে বাংলা নববর্ষ। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এই উৎসব কেবল নতুন পোশাকেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ঘরের কোণে কোণে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া মাখানোই হলো আসল সার্থকতা। যান্ত্রিক জীবনের ইট-পাথরের ঘরে কীভাবে এক টুকরো গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ফুটিয়ে তুলবেন? রইল সহজ কিছু বিউটি টিপস:
১. মাটির ছোঁয়ায় নান্দনিকতা
বাঙালিয়ানার প্রধান অনুষঙ্গ হলো মাটি। বসার ঘরের সেন্টার টেবিল বা কোণে রাখতে পারেন মাটির সরাচিত্র, টেরাকোটার শোপিস কিংবা মাটির ফুলদানি। একটি বড় মাটির গামলায় জল ভরে তাতে গোলাপ বা রজনীগন্ধার পাপড়ি এবং ভাসমান মোমবাতি দিয়ে তৈরি করতে পারেন নান্দনিক ‘উরুলি’, যা অতিথিদের চোখ জুড়িয়ে দেবে।
২. আলপনায় নতুন রূপ
বৈশাখের সাজে আলপনা ছাড়া কি চলে? ঘরের প্রবেশদ্বার বা বারান্দার মেঝেতে সাদা খড়িমাটি বা চালের গুঁড়ো দিয়ে চিরাচরিত আলপনা এঁকে ফেলুন। যদি মেঝেতে জায়গা কম থাকে, তবে মাটির সরা বা কাঠের পিঁড়িতে রঙিন নকশা করে দেয়ালে ঝুলিয়ে দিতে পারেন।
৩. কুটির শিল্পের আসবাব ও পর্দা
পহেলা বৈশাখের এই গরমে ঘরকে শীতল রাখতে সুতির পর্দার বিকল্প নেই। হালকা রঙের খাদি বা তাতের পর্দা ব্যবহার করুন। সোফার কুশন কভারে বাটিক, ব্লক প্রিন্ট কিংবা কাঁথা স্টিচের কাজ থাকলে ঘরটি মুহূর্তেই ধ্রুপদী রূপ পাবে। সেই সঙ্গে মেঝেতে একটি শীতলপাটি বিছিয়ে দিলে আভিজাত্য বেড়ে যাবে বহুগুণ।
৪. ফুল ও সতেজতা
কৃত্রিম ফুলের বদলে ব্যবহার করুন তাজা রজনীগন্ধা, গাঁদা কিংবা বেলি ফুল। ঘরের কোণে মাটির ভাঁড়ে কয়েকটি বেলি ফুলের মালা রাখলে কেবল দেখতেই ভালো লাগবে না, সারা ঘর বৈশাখী ঘ্রাণে ম ম করবে।
৫. তামার থালা ও কাঁসার সাজ
খাবার টেবিলটিকেও সাজিয়ে তুলুন ঐতিহ্যের রঙে। কাঁচের বদলে মাটির থালা-বাসন বা কাঁসার থালা-বাটি ব্যবহার করুন। টেবিলের মাঝখানে একটি মাটির পাত্রে কিছু কাঁচা আম বা সজনে ডাঁটা সাজিয়ে রাখলে তাতে গ্রামীণ সংস্কৃতির ছোঁয়া ফুটে উঠবে।
উপসংহার:
ঘর সাজানোর জন্য খুব দামী জিনিসের প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজন হয় শৈল্পিক ভাবনার। এই বৈশাখে আপনার গৃহকোণ হয়ে উঠুক প্রাণের উৎসবে রঙিন।





