বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। একবার এই রোগ শরীরে বাসা বাঁধলে তা সম্পূর্ণরূপে নিরাময় করা প্রায় অসম্ভব। এমনকি, একে নিয়ন্ত্রণে রাখাও বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। আর ডায়াবেটিস যদি নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তবে হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা এবং চোখের জটিলতার মতো বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
ডায়াবেটিস রোগীদের প্রায়শই রক্তে শর্করার মাত্রার আকস্মিক বৃদ্ধি বা হ্রাসের সম্মুখীন হতে হয়। তবে তিনটি সহজ উপায় অনুসরণ করে এই সমস্যা এড়ানো সম্ভব। শুধু তাই নয়, এই কৌশলগুলো ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সহায়ক হতে পারে। চলুন, জেনে নেওয়া যাক সেই করণীয়গুলো:
১. ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত গ্রহণ করুন:
আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন। এই ধরনের খাবার দীর্ঘক্ষণ আপনার পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, যার ফলে বারবার খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার কেবল শরীরের জন্যই উপকারী নয়, এটি ওজন নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এমনকি, রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও অনেকাংশে হ্রাস পায়। ফল, সবজি, শস্য এবং ডাল জাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে।
২. খাওয়ার পর অলসতা পরিহার করুন, হাঁটাহাঁটি করুন:
কখনও খাবার খাওয়ার পরপরই শুয়ে বা বসে থাকবেন না। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে প্রতিবার খাওয়ার পর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করা জরুরি।
সারা দিনে তিন বেলা খাবার খাওয়ার পর যদি নিয়মিত ১০-১৫ মিনিট হাঁটেন, তবে রক্তের শর্করার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। হালকা হাঁটাচলা খাবার হজমে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার দ্রুত শোষণকে ধীর করে দেয়।
৩. খাবারের পরিমাণে মনোযোগ দিন, অল্প অল্প করে খান:
একবারে বেশি পরিমাণে খাবার না খেয়ে বরং অল্প অল্প করে নির্দিষ্ট সময় অন্তর খাবার গ্রহণ করুন।
প্রয়োজনে দিনের প্রধান তিন বেলার খাবারের পরিবর্তে পাঁচবার অল্প পরিমাণে খাবার খান। তবে খেয়াল রাখবেন, খাবারের পরিমাণ যেন পরিমিত হয়। এই নিয়ম মেনে চললে হঠাৎ করে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে বা কমে যাওয়ার সমস্যা এড়ানো সম্ভব। এর পাশাপাশি, শর্করাজাতীয় খাবার যতটা সম্ভব কম খাওয়ার চেষ্টা করুন।
এই তিনটি সহজ কৌশল অবলম্বন করে ডায়াবেটিস রোগীরা তাদের রক্তে শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আকস্মিক জটিলতা এড়াতে সক্ষম হতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, এই নিয়মগুলো মেনে চলার পাশাপাশি নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া এবং তাদের দেওয়া ওষুধ সেবন করাও অত্যন্ত জরুরি।





