ভ্যাপসা গরমে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা কফি অনেকের কাছেই এখন বিলাসিতা মনে হতে পারে। তাই কফিপ্রেমীরা ঝুঁকে পড়ছেন বরফশীতল কোল্ড কফির দিকে। কিন্তু স্বাস্থ্যগত দিক থেকে গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে কোন ধরণের কফি পান করা বেশি উপকারী? এই দ্বিধা কাটাতে সাহায্য করছে সাম্প্রতিক গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত।
গরম বনাম ঠান্ডা: পুষ্টির পার্থক্য কতটুকু?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কফি গরম হোক বা ঠান্ডা—এর মূল উপাদান কফি ও দুধ একই থাকে। তাই পুষ্টিগুণে এদের মধ্যে কোনো আকাশ-পাতাল পার্থক্য নেই। তবে হজমের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। যাদের পেট সংবেদনশীল বা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্সে সমস্যা আছে, তাদের জন্য ঠান্ডা কফি গ্যাসের কারণ হতে পারে। সেক্ষেত্রে গরম কফি হজম প্রক্রিয়ার জন্য বেশি স্বস্তিদায়ক।
গরম কফি কি শরীর ঠান্ডা রাখে?
শুনতে অবাক লাগলেও এটি সত্য। গরম পানীয় পান করলে শরীরে ঘামের উৎপাদন বাড়ে। এই ঘাম যখন বাষ্পীভূত হয়, তখন শরীর প্রাকৃতিকভাবেই ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ পায়। তবে এই পদ্ধতিটি মূলত শুষ্ক আবহাওয়ায় বেশি কাজ করে। আর্দ্র ও ভ্যাপসা গরমে এই প্রভাব কিছুটা কমে আসতে পারে।
সতর্কতা: ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা
কফিতে থাকা ক্যাফেইন মূত্রবর্ধক (Diuretic) হিসেবে কাজ করে, যা শরীর থেকে তরল বের করে দেয়। গ্রীষ্মের তীব্র গরমে কফির এই প্রভাব পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
দিনে এক বা দুই কাপের বেশি কফি পান করবেন না।
কফির পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে সাধারণ পানি, ডাবের পানি বা লেবুর শরবত পান করা বাধ্যতামূলক।
স্বাস্থ্যকর কোল্ড কফি তৈরির উপায়:
বাজারে কিনতে পাওয়া কোল্ড কফি বা ফ্র্যাপেতে প্রচুর পরিমাণে কৃত্রিম চিনি ও ক্রিম থাকে, যা ওজন বাড়ায় ও শরীরে অস্বস্তি তৈরি করে। বাড়িতে সাধারণ উপাদানে, স্বল্প চিনিতে কফি বানিয়ে পান করা অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।
সিদ্ধান্ত আপনারই:
গরমের দিনে গরম কফি বাদ দিয়ে কোল্ড কফিতে অভ্যস্ত হওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যদি আপনি ঠান্ডা কফি পান করে সতেজ বোধ করেন, তবে পরিমিত পরিমাণে সেটি উপভোগ করুন। আবার হজমের সুবিধার্থে গরম কফি বেশি ভালো লাগলে গরমের দিনেও তা পানে কোনো বাধা নেই।





