আগেকার দিনে কলা পাতায় খাবার খাওয়ার চল ছিল। এখন তা কমে গেলেও, বিভিন্ন রেস্তোরায় কলা পাতায় খাবার পরিবেশন করা হয়। তবে কলা পাতায় খাবার খেলে এর কেমন প্রভাব পড়ে শরীরে তা জেনে রাখা ভালো। তাহলে আপনিও হয়তো তেমন কিছু করতে চাইবেন।
কলা পাতা ভাত হচ্ছে দক্ষিণ ভারতের ভাত পরিবেশনের ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি। প্রাচীনকালে বাংলাদেশসহ কলাগাছ জন্মে দক্ষিণ এশিয়ার এমন অঞ্চলসমূহে বিবাহ, শ্রাদ্ধ, চল্লিশায় কলাপাতায় ভাত পরিবেশনের প্রচলন ছিলো। দক্ষিণ ভারত সংলগ্ন মালয়েশিয়া এবং সিংগাপুরেও অভিবাসী দক্ষিণ ভারতীয়দের কল্যাণে কলাপাতা ভাতের দেখা পাওয়া যায়। আগে কলাপাতায় খাবার খাওয়ার চল ছিল। তখনও থালাবাসন আসেনি। থালাবাসন এসে যাওয়ার পরেও অনুষ্ঠান বাড়িতে কলাপাতায় খেতে দেওয়া হত। এর ফলে শরীরে কেমন প্রভাব পড়ত?
প্রথমে জেনে নেওয়া যাক, কলাপাতায় কী কী পুষ্টিগুণ রয়েছে। কলাপাতার রসে রয়েছে সাইট্রিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি ও ট্যানিন। শরীরের নানা উপকার করে এই রস। ফলে কলাপাতায় খাবার খেলে অনেক ধরনের উপকার হতে পারে। এবার দেখে নেয়া যাক, এই তালিকায় কী কী রয়েছে।
কলাপাতা খাবার খেলে পেটের নানা রোগ সেরে যেতে পারে বা নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। জ্বর-সর্দি, ডায়ারিয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। কারণ এই ভাবে খাবার খেলে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়তে পারে কিছুটা। কলাপাতার রসের কিছু উপাদান কোষ্ঠকাঠিন্য, আমাশা, রক্তাল্পতা, চর্মরোগের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। এগুলো সবই রোগ প্রতিরোধ শক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত। রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়লে, এগুলো নিয়ন্ত্রণে থাকে। আর সেই কাজটিই করে কলাপাতার রস।
এছাড়াও কলাপাতায় খাবার খেলে সামান্য হলেও কমতে পারে ব্লাড প্রেশার। এর কিছু উপাদান সেই কাজে সাহায্য করতে পারে। এমনই মত বহু আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞের।
অনেক সময় কলাপাতায় মুড়ে মাছ, মাংস রান্না করে খাওয়া হয়। অনেকেই হয়তো ঐতিহ্য মেনে এই রেসিপিগুলো খেয়ে থাকেন। তবে শুধু স্বাদ আর গন্ধ বাড়াতেই নয়। খাবারের পুষ্টিগুণ বাড়াতেও সাহায্য করে এই কলাপাতা। এতে রয়েছে পলিফেনল। এটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। কলাপাতায় খেলে খাবারের সঙ্গে পলিফেনল মিশে পুষ্টিগুণ বাড়ে।
তবে মনে রাখবেন, বর্ষায় যেকোনো কাঁচা কলাপাতা থেকে আবার অন্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই কলাপাতায় খাবার খেতে হলে, তার আগে পাতা ভালো করে সাফ করে নিতে হবে। আর এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।





