শীতকাল হোক বা বর্ষা—গাঁটের ব্যথায় যারা ভোগেন, তাদের কষ্টের সীমা থাকে না। চিকিৎসকরা বলছেন, কেবল ওষুধ খেয়ে এই ব্যথা কমানো সম্ভব নয় যদি না আপনি আপনার খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনেন। আমরা প্রতিদিন এমন কিছু খাবার খাই যা শরীরের প্রদাহ (Inflammation) বাড়িয়ে দেয় এবং হাড়ের জয়েন্টগুলোকে আরও দুর্বল ও যন্ত্রণাদায়ক করে তোলে।
গাঁটের ব্যথা থাকলে যে খাবারগুলো বিষের মতো কাজ করে:
১. অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টি:
চিনি বা সোডাযুক্ত পানীয় শরীরে ‘সাইটোকাইনস’ নামক এক ধরণের প্রোটিন নিঃসরণ করে যা জয়েন্টের প্রদাহ বা ফোলা ভাব কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই মিষ্টি ও কোল্ড ড্রিংকস থেকে দূরে থাকুন।
২. লাল মাংস (Red Meat):
খাসির মাংস বা প্রসেসড মিটে প্রচুর পরিমাণে পিউরিন এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। এটি শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা গাঁটের ব্যথার প্রধান কারণ।
৩. ময়দা ও রিফাইন করা খাবার:
সাদা পাউরুটি, পাস্তা বা ময়দা দিয়ে তৈরি খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং শরীরে প্রদাহ তৈরি করে। হাড়ের সুস্থতার জন্য আটার রুটি বা হোল গ্রেইন খাবার বেছে নিন।
৪. অতিরিক্ত লবণ ও লোনা খাবার:
অতিরিক্ত লবণ শরীরে জল ধরে রাখে (Water Retention), যার ফলে জয়েন্টগুলোতে চাপ পড়ে এবং ফোলা ভাব বাড়ে। চিপস, আচার বা নোনতা খাবার এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
৫. ভাজাভুজি ও ট্রান্স ফ্যাট:
তেলে ভাজা খাবার বা ফাস্ট ফুডে থাকা ট্রান্স ফ্যাট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে অস্থির করে তোলে এবং হাড়ের সন্ধিস্থলের কার্টিলেজ নষ্ট করতে শুরু করে।
ব্যথা কমাতে কী খাবেন?
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড: সামুদ্রিক মাছ, তিল বা আখরোট খান। এটি প্রদাহ কমাতে জাদুর মতো কাজ করে।
আদা ও রসুন: এগুলো প্রাকৃতিক পেইন কিলার হিসেবে পরিচিত। রান্নায় এর ব্যবহার বাড়ান।
হলুদ জল: হলুদে থাকা ‘কারকিউমিন’ গাঁটের ব্যথা ও ফোলা ভাব কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: গাঁটের ব্যথা কমানোর সেরা উপায় হলো ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। শরীরের অতিরিক্ত ওজন সরাসরি হাঁটু ও কোমরের জয়েন্টে চাপ তৈরি করে। তাই নিয়মিত হালকা শরীরচর্চা ও সঠিক ডায়েট মেনে চলুন।