চলতি বছরের রেকর্ডভাঙা তীব্র দাবদাহে জনজীবন ওষ্ঠাগত। ঘরের ভেতরে একটু শান্তির খোঁজে মধ্যবিত্তের ভরসা এখন এয়ার কন্ডিশনার বা এসি। তবে নতুনের চড়া দামের কারণে অনেকেই খরচ বাঁচাতে ঝুঁকছেন পুরোনো বা সেকেন্ড হ্যান্ড এসির দিকে। কিন্তু কম দামে এসি কেনার এই স্বস্তি যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে এসি বিস্ফোরণের একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, অসাবধানতার ফল কতটা ভয়ংকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরোনো এসি কেনার ক্ষেত্রে সামান্য অবহেলাই আপনার ঘরে ডেকে আনতে পারে জ্যান্ত ‘টাইম বোমা’।
তাই সেকেন্ড হ্যান্ড বা পুরোনো এসি কেনার আগে এবং তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা বিস্ফোরণ এড়াতে কোন কোন বিষয়ে বিশেষ নজর দেবেন, তা জেনে নেওয়া যাক একনজরে।
১. কম্প্রেসরের কার্যক্ষমতা যাচাই করুন
এসির মূল চালিকাশক্তি হলো এর কম্প্রেসর। পুরোনো এসি কেনার আগে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান দিয়ে কম্প্রেসরের কন্ডিশন পরীক্ষা করিয়ে নিন। যদি কম্প্রেসর অতিরিক্ত গরম হয়ে যায় কিংবা কোনো অস্বাভাবিক শব্দ করে, তবে সেই এসি কেনা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। কারণ দুর্বল কম্প্রেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়লে তা যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে।
২. গ্যাস লিকেজ ও তামার পাইপ পরীক্ষা
পুরোনো এসিতে গ্যাস লিকেজের সমস্যা খুবই সাধারণ। রেফ্রিজারেন্ট বা ঠান্ডা করার গ্যাস যদি সুক্ষ্ম কোনো ছিদ্র দিয়ে লিক করে, তবে তা ঘরের ভেতরের বৈদ্যুতিক স্পার্কের সংস্পর্শে এসে মারাত্মক আগুন ধরে যেতে পারে। তাই এসি কেনার আগে এর ভেতরের তামার পাইপলাইন (কপার কন্ডেন্সার) এবং গ্যাস প্রেসার নিখুঁতভাবে চেক করে নেওয়া বাধ্যতামূলক।
৩. ওয়্যারিং এবং সঠিক ভোল্টেজ
অনেক সময় পুরোনো এসির ভেতরের বৈদ্যুতিক তার বা ওয়্যারিংয়ের মান নষ্ট হয়ে যায়। দুর্বল তারের কারণে শর্ট সার্কিট হয়ে এসি ব্লাস্ট হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এ ছাড়া, আপনার বাড়ির ভোল্টেজ পুরোনো এসির লোড নেওয়ার জন্য উপযুক্ত কি না, তা কোনো দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে মেপে নিন। এসির প্লাগ ও সকেটের মানও যেন উন্নত হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
৪. সার্ভিসিং ও ক্লিনসিং রেকর্ড
বিক্রেতার কাছ থেকে জেনে নিন এসিটির শেষ কবে সার্ভিসিং করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করা এসির ফিল্টার ও ফ্যানে ধুলোবালি জমে বাতাস চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে ভেতরের তাপমাত্রা ও চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। সেকেন্ড হ্যান্ড এসি কেনার পর ঘরে লাগানোর আগেই সেটিকে ভালো করে ওয়াশ এবং ফুল সার্ভিসিং করিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
৫. ব্র্যান্ড ও মডেলের বয়স
খুব বেশি পুরোনো বা ১০-১২ বছরের প্রাচীন মডেলের এসি কেনা কোনোভাবেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। পুরোনো প্রযুক্তির এসিতে সুরক্ষামূলক সেন্সর বা অটো-কাট অফের মতো আধুনিক ফিচার থাকে না, যা ওভারহিটিং আটকাতে পারে। তাই চেনা ব্র্যান্ড এবং তুলনামূলক কম ব্যবহৃত (২ থেকে ৪ বছর পুরোনো) এসি বেছে নেওয়াই নিরাপদ।
বিশেষজ্ঞদের জরুরি পরামর্শ
সস্তায় এসি পেয়েই হুট করে সিদ্ধান্ত নেবেন না। মনে রাখবেন, জীবনের মূল্যের চেয়ে কয়েক হাজার টাকা বাঁচানো কখনোই বড় হতে পারে না। পুরোনো এসি কেনার পর প্রতি বছর গরমের মরশুম শুরুর আগে অন্তত একবার অনুমোদিত কোনো সার্ভিস সেন্টার থেকে দক্ষ কর্মী এনে সেটিকে ভালো করে পরীক্ষা করান। একটানা অনেক ঘণ্টা এসি চালাবেন না, মাঝে মাঝে কম্প্রেসরকে কিছুটা বিশ্রাম দিলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।





