ভারতীয় ক্রিকেটের অন্দরমহলে এখন বড়সড় পরিবর্তনের হাওয়া। খুব শীঘ্রই টি-২০ দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরতে চলেছেন সূর্যকুমার যাদব। একটি সর্বভারতীয় সংবাদপত্রের দাবি অনুযায়ী, আসন্ন আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড সফরে টিম ইন্ডিয়ার নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেবেন শ্রেয়স আইয়ার। এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করতে বৃহস্পতিবার বোর্ডের অ্যাপেক্স কমিটির এক অনলাইন বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেই বৈঠকেই সূর্যকুমারকে সরানোর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সিলমোহর পাবে বলে জানা গেছে।
সূত্রের খবর, নতুন অধিনায়ক নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি মোটেই মসৃণ ছিল না। প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর চেয়েছিলেন সঞ্জু স্যামসনকে নতুন অধিনায়ক হিসেবে দেখতে। কিন্তু মুখ্য নির্বাচক অজিত আগরকর এবং নির্বাচক কমিটির অন্যান্য সদস্যরা গম্ভীরের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হতে পারেননি। তাঁদের মতে, সঞ্জু স্যামসন টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও, নেতৃত্বের মতো দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব নেওয়ার জন্য তিনি এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নন। বিশেষ করে তাঁর ধারাবাহিকতার অভাব নিয়েই বোর্ড সদস্যদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। এই বিতর্কের পরেই শেষ পর্যন্ত শ্রেয়স আইয়ারকে অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়ার বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছায় নির্বাচক কমিটি।
শ্রেয়স আইয়ার বর্তমানে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। টি-২০ বিশ্বকাপ দলে জায়গা না পেলেও, আইপিএলে তাঁর পারফরম্যান্স চোখ ধাঁধানো। ২০২৫ আইপিএলে পাঞ্জাব কিংসকে ফাইনালে তোলার নেপথ্যে তাঁর নেতৃত্ব ও ব্যাটিং ছিল অনবদ্য। ১৪ ম্যাচে ৪৯৮ রান এবং ১৬৮.৮১ স্ট্রাইক রেট প্রমাণ করে, ব্যাট হাতেও তিনি সূর্যকুমারের যোগ্য বদলি। একটি শতরান এবং পাঁচটি অর্ধশতরান দিয়ে তিনি নিজেকে আবারও প্রমাণিত করেছেন। দলের চার নম্বর ব্যাটার হিসেবেও তিনি যে সূর্যকুমারের অভাব পূরণ করতে পারবেন, সে ব্যাপারে নিশ্চিত নির্বাচকরা। অন্যদিকে, টি-২০ সিরিজের জন্য বিসিসিআইয়ের নতুন সহ-অধিনায়ক হিসেবে তিলক বর্মার নাম উঠে এসেছে। অক্ষরের বদলে তরুণ এই অলরাউন্ডারের ওপরেই আস্থা রাখছে বোর্ড।
তবে এই রদবদলের ঘটনায় রজত পতিদারের ভক্তদের জন্য রয়েছে দুঃসংবাদ। বেঙ্গালুরুকে দুবার আইপিএল জেতানো রজত পতিদার ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে থাকলেও, আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য তাঁর নাম বিবেচনা করা হচ্ছে না। সূর্যকুমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন ঘোর অনিশ্চয়তা, কারণ আসন্ন দুটো সিরিজ থেকেই তিনি বাদ পড়তে পারেন বলে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, বৃহস্পতিবারের চূড়ান্ত বৈঠকে বিসিসিআই কী বার্তা দেয় এবং শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বে ভারতীয় দল কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে।





