গত কয়েক মাসের বিধ্বংসী ফর্ম এবং মাঠে অভাবনীয় ঠান্ডা মাথার পারফরম্যান্স সঞ্জু স্যামসনকে ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্বের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে দিয়েছে। বিসিসিআই (BCCI) সূত্রের খবর অনুযায়ী, অজিত আগরকরের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি স্যামসনের ধারাবাহিকতা এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তাঁর নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতায় মুগ্ধ। সাম্প্রতিক আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের শিরোপা জয়ের নেপথ্যে সঞ্জুর পরোক্ষ অবদান এবং তাঁর লড়াকু মানসিকতা ম্যানেজমেন্টের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে।
গৌতম গম্ভীরের কোচিং জমানার শুরুতে অভিষেক শর্মা বা ইশান কিষাণদের নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলায় সঞ্জু কিছুটা ব্রাত্য ছিলেন। কিন্তু সুযোগ পেতেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে মরণ-বাঁচন ম্যাচে তাঁর অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংসটি নির্বাচকদের নজর কাড়তে বাধ্য করে। এরপর নকআউট পর্বে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পরপর ৮৯ রানের ইনিংস খেলে তিনি প্রমাণ করেছেন যে বড় মঞ্চের জন্য তিনি এখন পুরোপুরি তৈরি।
অন্যদিকে, বর্তমান অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের ফর্ম নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আইপিএল ২০২৬-এ সূর্যের ব্যাট রীতিমতো শান্ত। ১০ ম্যাচে মাত্র ১৯.৫২ গড়ে তিনি করেছেন মাত্র ১৯৫ রান। আমেরিকার বিরুদ্ধে একটি ইনিংস ছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও তাঁকে চেনা ছন্দে পাওয়া যায়নি। অধিনায়ক ফর্মে না থাকলে দলের আত্মবিশ্বাসে তার প্রভাব পড়ে, আর ঠিক এই জায়গাতেই সঞ্জুর নাম জোরালোভাবে উঠে আসছে।
নির্বাচকদের ভাবনায় শ্রেয়াস আইয়ার থাকলেও দীর্ঘ সময় টি-টোয়েন্টি দলের বাইরে থাকা তাঁর বিপক্ষে যাচ্ছে। উল্টোদিকে, চেন্নাই সুপার কিংসের জার্সিতে আইপিএল-এ সঞ্জুর বিধ্বংসী ব্যাটিং (ইতিমধ্যেই ৪০০-র বেশি রান ও একাধিক শতরান) এবং রাজস্থান রয়্যালসকে নেতৃত্ব দেওয়ার পূর্ব অভিজ্ঞতা তাঁকে যোগ্যতম দাবিদার করে তুলেছে। সব ঠিক থাকলে আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজে টিম ইন্ডিয়ার নীল জার্সিতে ক্যাপ্টেন হিসেবে সঞ্জু স্যামসনের অভিষেক স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।





