আইপিএলের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সম্ভাবনা রুখতে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (BCCI)। চলতি আইপিএল ২০২৬ মরশুমের মাঝপথেই স্মার্ট সানগ্লাস বা স্মার্ট গগলসের ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করল বিসিসিআই-এর দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা শাখা (ACSU)। প্রযুক্তির যুগে ক্রিকেটার বা সাপোর্ট স্টাফদের মাধ্যমে যাতে কোনো প্রকার গোপন তথ্য বাইরে পাচার না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই কড়া পদক্ষেপ।
বিসিসিআই সূত্রে খবর, ইদানীং বাজারে আসা আধুনিক স্মার্ট সানগ্লাসগুলিতে লাইভ স্ট্রিমিং, অডিও-ভিডিও কলিং এবং টেক্সট মেসেজ আদানপ্রদানের মতো অত্যাধুনিক সুবিধা রয়েছে। বোর্ড এই ডিভাইসগুলিকে কেবল সানগ্লাস হিসেবে দেখছে না, বরং এগুলিকে ‘অডিও-ভিডিও রেকর্ডিং ডিভাইস’ এবং ‘কমিউনিকেশন ডিভাইস’-এর আওতায় আনা হয়েছে। গত ১৮ মে সমস্ত আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিকে এই নতুন নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। বোর্ডের স্পষ্ট নির্দেশ, আইপিএলের প্লেয়ার্স অ্যান্ড ম্যাচ অফিসিয়ালস এরিয়া (PMOA), যেমন ড্রেসিংরুম, ডাগআউট বা খেলার মাঠে এই ধরনের ডিভাইস বহন করা বা ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
কেন এই নিষেধাজ্ঞা? বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্ট সানগ্লাসে ক্যামেরা, মাইক ও ইন্টারনেট সুবিধা থাকায় এর মাধ্যমে মাঠ বা ড্রেসিংরুমের কৌশল গোপনে বাইরের কারো কাছে পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত সহজ। লাইভ ভিডিও রেকর্ডিং বা অডিও লিঙ্কের মাধ্যমে স্পট-ফিক্সিংয়ের মতো অনৈতিক কাজে এই গ্যাজেট ব্যবহারের আশঙ্কা থেকেই বোর্ড এই আগাম সতর্কতা নিয়েছে। ক্রিকেটীয় টুর্নামেন্টের পবিত্রতা রক্ষা করতে বিসিসিআই কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ।
নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, ম্যাচের দিন ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ এবং ম্যাচ অফিসিয়ালদের মোবাইল ফোন ও স্মার্টওয়াচের মতোই স্মার্ট সানগ্লাসও নির্দিষ্ট সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসারের কাছে জমা রাখতে হবে। যদি কোনো ব্যক্তি বা ফ্র্যাঞ্চাইজি এই নিয়ম লঙ্ঘন করেন, তবে তাঁদের কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। বিসিসিআই জানিয়েছে, চলতি মরশুমের প্লে-অফ ম্যাচগুলোতেও এই নিয়ম অত্যন্ত কড়াকড়ির সঙ্গে কার্যকর করা হবে।
পিএমওএ (PMOA) এলাকার প্রবেশপথে নিরাপত্তা তল্লাশি আরও জোরদার করার পরিকল্পনা করেছে বোর্ড। সব মিলিয়ে, আইপিএলের মতো হাই-প্রোফাইল টুর্নামেন্টে প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে বিসিসিআই-এর এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ক্রিকেট মহলে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দলগুলোকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তারা অবিলম্বে তাদের সকল খেলোয়াড় এবং সাপোর্ট স্টাফদের এই কড়া নিয়ম সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করে দেয়। আইপিএল ২০২৬-এর উত্তেজনার মাঝে বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত মাঠের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





