রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে আইপিএল ট্রফি জয়ের আনন্দে ভাসছে গোটা আরসিবি শিবির। টানা দ্বিতীয়বার খেতাব জেতানোর নেপথ্যে ব্যাটে-বলে বিরাট কোহলির ভূমিকা ছিল অপরিসীম। টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিলেও আইপিএলের মঞ্চে তাঁর ফর্ম যেন নতুন করে কথা বলছে। কিন্তু সেই সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই এল এক বড় দুঃসংবাদ। চোটের কবলে পড়ে চলতি মাসেই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ওডিআই সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন খোদ বিরাট কোহলি।
আগামী বছর ওডিআই বিশ্বকাপকে পাখির চোখ করেছেন বিরাট। তাই জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর ছন্দ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণেই আফগানিস্তান সিরিজের স্কোয়াড থেকে নাম প্রত্যাহার করতে হয়েছে তাঁকে। তবে বিরাটের এই হঠাৎ অনুপস্থিতি ভারতীয় দলের জন্য বড় ধাক্কা। শুধু কোহলিই নন, রোহিত শর্মার খেলা নিয়েও তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। আইপিএল মরশুমে ফিটনেসজনিত সমস্যায় রোহিত বেশ কয়েকটি ম্যাচ মিস করেছিলেন। আফগানদের বিরুদ্ধে ওডিআই সিরিজের স্কোয়াডে নাম থাকলেও তাঁর ফিটনেস পরীক্ষার ওপরই নির্ভর করছে সিরিজের ভবিষ্যৎ। রোহিত যদি ফিটনেস পরীক্ষায় পাস করতে না পারেন, তবে দুই মহারথীকে ছাড়াই হাসমতুল্লাহ শাহিদিদের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে হবে ভারতকে।
২০২৬ আইপিএলে কোহলির পারফরম্যান্স ছিল স্বপ্নের মতো। ১৬ ম্যাচে ৬৭৫ রান করে তিনি প্রতিযোগিতার চতুর্থ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। টানা চারটি আইপিএলে ৬০০ বা তার বেশি রান করার বিরল নজিরও গড়েছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই এমন ফর্মের সময় তাঁর চোট পাওয়াটা ভক্তদের কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত। যদিও বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি, তবে কোহলির অনুপস্থিতিতে টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ যে খানিকটা দুর্বল হয়ে পড়বে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
উল্লেখ্য, আগামী ১৩ জুন ধরমশালায় শুরু হচ্ছে ভারত-আফগানিস্তান ওডিআই সিরিজ। এরপর ১৭ জুন লখনউ এবং ২০ জুন চেন্নাইয়ে সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগামী জুলাই মাসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজ খেলতে বিলেতে উড়াল দেবে ভারতীয় দল। চোট সারিয়ে সেই গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে বিরাট নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুলতে মরিয়া। এখন দেখার বিষয়, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে বিরাটের পরিবর্তে স্কোয়াডে কাকে জায়গা দেয় বোর্ড এবং শেষপর্যন্ত রোহিত শর্মার ফিটনেস রিপোর্ট কী আসে। সব মিলিয়ে, সিরিজের আগে ভারতীয় শিবিরে এখন বড়সড় দুশ্চিন্তার মেঘ।





