পোশাক কারখানার আড়ালে জইশ কানেকশন? জঙ্গি হামিমের ফোন ঘেঁটে চোখ কপালে তদন্তকারীদের

বাইরে থেকে দেখলে মনে হতেন এক্কেবারে সাধারণ এক যুবক। কখনও পোশাকে বারকোড লাগানোর কাজ, তো কখনও আবার দর্জির কাজ করে ইউনিফর্ম সেলাই করা—এটাই ছিল তাঁর পরিচিত পেশা। তবে সেই সাধারণ পরিচয়ের আড়ালেই লুকিয়ে ছিল এক ভয়ঙ্কর রহস্য! জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) যোগের সন্দেহে ধৃত হামিম মণ্ডলকে ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের (STF)।

আবাসনের জিমের সিসিটিভি ও জিম-প্রীতি

তদন্তে জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানের অভিজাত রেনেসাঁ আবাসনের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন হামিম। নিয়মিত ওই আবাসনের জিমে শরীরচর্চা করতেন তিনি। শুক্রবার সকালে ওই জিম থেকেই তাঁকে আটক করে পরে গ্রেফতার করে এসটিএফ। ইতিমধ্যেই ওই জিমের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা, যার একাধিক অংশ ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দিব্যি হাসিমুখে ব্যায়াম করতে দেখা যাচ্ছে হামিমকে।

ব্যাকগ্রাউন্ড ও রুট পরিবর্তন

এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, হামিমের আদি বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের কুসুমগ্রামে হলেও দীর্ঘ দিন তিনি হাওড়ার পিলখানা এলাকায় বসবাস করতেন। সেখানে একটি পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ করতেন তিনি। সম্প্রতি সেই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হওয়ার পর তিনি বর্ধমানে চলে আসেন এবং দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের ধারে রেনেসাঁ কমপ্লেক্সে ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। বর্ধমানে আসার আগে তিনি কলকাতার নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাটেও ভাড়া থাকতেন বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। তিনি আসল পরিচয় ব্যবহার করতেন নাকি ভুয়ো নথির আশ্রয় নিয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিউটাউন ও বর্ধমানের ফ্ল্যাট মালিকদেরও জিজ্ঞাসাবাদের সম্ভাবনা রয়েছে।

পাকিস্তান যোগ ও ডিজিটাল ফরেন্সিক

গত কয়েক মাস ধরেই হামিমের গতিবিধির উপর নজর রাখছিল এসটিএফ। শেষ চার-পাঁচ দিনে তাঁর যাতায়াত আরও নিবিড়ভাবে ট্র্যাক করা হয়। গ্রেফতারের পর তাঁর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ফোন থেকে কিছু সন্দেহজনক ডিজিটাল নথি মিলেছে। এমনকী, পাকিস্তানে থাকা কয়েক জন ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগের ইঙ্গিতও পাওয়া গিয়েছে। সেই যোগাযোগ আদতে কোনও নাশকতার ছক কি না, তা নিশ্চিত করতে চলছে ডিজিটাল ফরেন্সিক পরীক্ষা।

আইএসআই ও জইশ ঘনিষ্ঠ ইনস্টাগ্রাম পেজ যোগ

তদন্তে আরও একটি বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। গত কয়েক মাস ধরে একটি নির্দিষ্ট ইনস্টাগ্রাম পেজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন হামিম। তদন্তকারীদের জোরালো সন্দেহ, পেজটি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI)-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত হতো। পাশাপাশি, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে সক্রিয় জইশ-ই-মহম্মদের সাজ্জাদ ভাট্টি গোষ্ঠীর সঙ্গেও এর যোগ থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যদিও এই সমস্ত তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে দেখছেন গোয়েন্দারা। শুক্রবারই ধৃত হামিমকে পূর্ব বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়েছে।