ভারতীয় দলে ব্রাত্য শামি! চোটের জেরে কেরিয়ার কি শেষের মুখে? যা বললেন জাহির খান

ভারতীয় ক্রিকেট দলে একের পর এক চোট-আঘাতের সমস্যা এবং ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে তারকা পেসার যশপ্রীত বুমরাহের ফিটনেস নিয়ে যখন দল ও ম্যানেজমেন্টকে বিকল্প ভাবতে হচ্ছে, ঠিক তখনই অভিজ্ঞ পেসার মহম্মদ শামির জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দল গঠন ও পরিকল্পনা শুরু হয়ে গেলেও নির্বাচকদের আলোচনায় এই মুহূর্তে শামির নাম সেভাবে উঠে আসছে না। এই পরিস্থিতিতে ভারতের অন্যতম সফল প্রাক্তন বাঁ-হাতি পেসার জাহির খানকে শামির বর্তমান ক্রিকেট ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। জাহিরের সাফ কথা, এই মুহূর্তে ভারতীয় দলে দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে বলে ধরে নেওয়া ভুল হবে।

একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে জাহির খান শামির এই পরিস্থিতি প্রসঙ্গে নিজের মতামত ব্যক্ত করে জানান যে, একজন পেশাদার খেলোয়াড়ের কাজ হল শুধু নিজের পারফর্ম করে যাওয়া। তিনি বলেন, ‘আপনি কীভাবে সামনে এগিয়ে যেতে চান, সেটা সম্পূর্ণ আপনার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। আপনি যদি নিয়মিত ম্যাচ খেলেন এবং মাঠে নিজের সেরাটা দিয়ে ভালো পারফর্ম করেন, তবে আপনি সবসময় নিজেকে জাতীয় দলের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রাখছেন। আমি ক্রিকেটকে সবসময় এই চোখেই দেখি।’ জাহিরের মতে, জাতীয় দল বা নির্বাচকদের টিম কম্বিনেশনের ভাবনা অন্যরকম হতেই পারে, কিন্তু একজন ক্রিকেটারের নিজের কাজের প্রতি সৎ থাকাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাইরের আলোচনা বা সিদ্ধান্ত নিয়ে না ভেবে শামি বর্তমানে ঘরোয়া বা প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলে যেভাবে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন, সেটাই একজন আদর্শ খেলোয়াড়ের করা উচিত।

এদিকে বর্তমান ভারতীয় দলের অন্দরে ইনজুরির তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। যশপ্রীত বুমরাহের পাশাপাশি ওয়াশিংটন সুন্দর, সাই সুদর্শন, হর্ষিত রানা এবং হার্দিক পান্ডিয়ার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার বিভিন্ন সময়ে ফিটনেস সংক্রান্ত সমস্যায় পড়ে দল থেকে ছিটকে গিয়েছেন। পেসারদের এই ধারাবাহিক চোট পাওয়ার প্রবণতা এবং ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের ঘাটতি নিয়ে জাহির খান বিশদে আলোকপাত করেছেন। তাঁর মতে, চোট-আঘাত আধুনিক ক্রিকেটেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, যা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করতে হলে এই চোটগুলোর আসল কারণ খুঁজে বের করা দরকার। পেসারদের শরীর এবং তাদের বোলিং ওয়ার্কলোড সুনির্দিষ্টভাবে নিয়ন্ত্রণ করার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে জাহির বলেছেন যে, যতক্ষণ না কোনো সমস্যার মূল শেকড় পর্যন্ত পৌঁছানো যাচ্ছে, ততক্ষণ সামনের দিকে সঠিক পথে এগোনো অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।