আমেরিকার উপর নির্ভরশীলতা শেষ! স্বদেশি ‘কাবেরী ২.০’ ইঞ্জিনে চড়ে চিন-পাককে কড়া বার্তা ভারতের

চার দশকেরও বেশি সময় আগে যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং পারফরম্যান্সের ঘাটতির কারণে ২০০৮ সালে লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (LCA) প্রকল্প থেকে আলাদা করে দেওয়া হয়েছিল, সেই ভারতের ঐতিহাসিক স্বদেশি কাবেরী জেট ইঞ্জিন এখন সম্পূর্ণ কাঠামোগত পুনর্জন্মের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমেরিকার জেনারেল ইলেকট্রিক (GE) সংস্থার F404 ইঞ্জিন সরবরাহে লাগাতার দেরি এবং বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বাধার মুখে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)-এর গ্যাস টারবাইন রিসার্চ এস্টাবলিশমেন্ট (GTRE) এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ করেছে। মার্কিন কৌশলের জোরদার জবাব দিতে DRDO তাদের স্বদেশি কাবেরী জেট ইঞ্জিনকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে ডিজাইন করে ‘কাবেরী ২.০’ হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করেছে।

বিজনেস টুডে-র রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকার উপর প্রতিরক্ষা নির্ভরতা পুরোপুরি খর্ব করার লক্ষ্যেই এই নতুন ৯০ কিলোনিউটন (90kN) শ্রেণির ইঞ্জিন তৈরি করা হচ্ছে। দশকের শেষের দিকে তেজস (Tejas Mk1A) বহরে ব্যবহৃত মার্কিন ইঞ্জিনগুলি যখন মিড-লাইফ রিপ্লেসমেন্ট সাইকেলে পৌঁছবে, তখন এই দেশীয় কাবেরী ২.০ ইঞ্জিন দিয়ে সেগুলি সরাসরি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হবে। পুরনো কাবেরী ইঞ্জিন যেখানে মাত্র ৪৯kN থেকে ৫২kN থ্রাস্ট দিতে পারত, সেখানে কাবেরী ২.০ এখন ৫৫-৬০kN ড্রাই থ্রাস্ট এবং আফটারবার্নারের সাহায্যে ৯০-১০০kN সর্বোচ্চ ওয়েট থ্রাস্ট উৎপন্ন করবে, যা তেজস যুদ্ধবিমানের চাহিদার সঙ্গে নিখুঁতভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

কাবেরী ২.০ ইঞ্জিনের ৫টি প্রধান প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য একে বিশ্বমানের করে তুলেছে: প্রথমত, শক্তিশালী ৯০kN থ্রাস্ট যা আধুনিক ফাইটার জেটের উপযোগী। দ্বিতীয়ত, সম্পূর্ণ নতুনভাবে ডিজাইন করা হাই-প্রেশার কম্প্রেসর, যা চাপের অনুপাত এবং জ্বালানি দক্ষতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তৃতীয়ত, লিকেজ রোধ, কাঠামোগত ওজন কমানো এবং থ্রাস্ট-টু-ওয়েট অনুপাত উন্নত করতে উন্নত টাইটানিয়াম অ্যালয় দিয়ে তৈরি সিঙ্গল-পিস ‘ব্লিস্ক’। চতুর্থত, চরম তাপমাত্রা সহ্য করা এবং তাপীয় দক্ষতা বৃদ্ধি করার জন্য অত্যাধুনিক সিঙ্গল-ক্রিস্টাল টারবাইন ব্লেড। পঞ্চমত, এই ইঞ্জিনের একটি নন-আফটারবার্নিং ড্রাই সংস্করণ ইতিমধ্যে DRDO-এর ‘ঘাতক’ (Ghatak) স্টেলথ কমব্যাট ইউএভি (UCAV)-কে সফলভাবে শক্তি জোগাচ্ছে।