ফিফার বিশ্ব একাদশে বিরাট চমক! বাদ পড়লেন হ্যারি কেন ও লামিনে ইয়ামাল, জায়গা পেলেন কে ভোজিনহা?

ফিফা ঘোষিত সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপের অফিসিয়াল সেরা একাদশে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ও অভূতপূর্ব চমক লক্ষ্য করা গেছে, যা বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র আলোচনার ঝড় তুলেছে। টুর্নামেন্টের সেরা একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য ৪০ বছর বয়সী গোলকিপার ভোজিনহা। যা ছিল বিশেষজ্ঞদের কাছেও অত্যন্ত প্রত্যাশিত। স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী গোলকিপার উনাই সিমন এবং ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ জর্ডন পিকফোর্ডকে রীতিমতো পেছনে ফেলে ফিফার সেরা একাদশে জায়গা পাকা করেন এই অভিজ্ঞ তারকা। গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে অসামান্য গোলকিপিং করে সকলের মন কেড়েছিলেন তিনি। গোলের নিচে একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ করে খোদ লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকেও প্রায় রুখে দিয়েছিলেন এই সেনসেশনাল গোলরক্ষক। মাত্র পাঁচ লক্ষ জনসংখ্যার ছোট দেশ কেপ ভার্দে টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে অপরাজিত থেকে শেষ পর্যন্ত রাউন্ড অফ ৩২-এ আর্জেন্টিনার কাছে অতিরিক্ত সময়ে পরাস্ত হয়েছিল। এমনকি খোদ লিওনেল মেসিও তাঁর এই লড়াকু মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন।

অন্যদিকে, দলে জায়গা পাননি স্পেনের উদীয়মান ১৯ বছরের তরুণ তুর্কি পাও কুবার্সি। রক্ষণে দুর্দান্ত পারফর্ম করে টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় নির্বাচিত হলেও, সেন্টার ব্যাক হিসেবে তাঁকে টপকে ফিফার সেরা একাদশে জায়গা করে নেন ফ্রান্সের ডায়োট উপামেকানো এবং আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। সামগ্রিকভাবে ফিফার এই সেরা একাদশে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং রানার্স-আপ ফ্রান্সের তিনজন করে ফুটবলার জায়গা পেয়েছেন, এবং রানার্স-আপ আর্জেন্টিনা দল থেকে সুযোগ পেয়েছেন দুই তারকা। ফিফার এই সেরা রক্ষণভাগে স্পেনের দুই বিশ্বকাপজয়ী তারকা মার্ক কুকুরেয়া এবং পেডরো পোরোও অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে জায়গা করে নিয়েছেন। মাঝমাঠ বা মিডফিল্ডের ক্ষেত্রে গোল্ডেন বল জয়ী তারকা রডরি নিজের নামের প্রতি সুবিচার করে অনায়াসেই দলে স্থান পেয়েছেন। স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে তাঁর এই কেন্দ্রীয় ভূমিকা অত্যন্ত নির্ণায়ক ছিল। এছাড়া পুরো টুর্নামেন্টে চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সের সুবাদে ইংল্যান্ডের তারকা জুড বেলিংহ্যাম এবং ফ্রান্সের মাইকেল অলিসে মিডফিল্ডে নিজেদের জায়গা পাকা করেন।

তবে এই দল ঘোষণার সবচেয়ে বড় ও চাঞ্চল্যকর চমকটি দেখা গেছে স্ট্রাইকিং লাইন-আপ বা ফরোয়ার্ড পজিশনে। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা হওয়া সত্ত্বেও ফিফার এই সেরা একাদশে সুযোগ পাননি ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার হ্যারি কেন। তাঁর পরিবর্তে ফিফার সেরা একাদশে জায়গা করে নেন নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড। আক্রমণভাগের বাকি দুই তারকা হিসেবে স্বাভাবিক পছন্দ হিসেবেই জায়গা পেয়েছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে এবং আর্জেন্টিনার জাদুকরী অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে সবচেয়ে বেশি আশ্চর্যের বিষয় হলো, সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপে দারুণ ফুটবল খেলে দল চ্যাম্পিয়ন হলেও ফিফার এই সেরা একাদশে কোনো স্থান পাননি স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামাল। মারাত্মক চোট সারিয়ে টুর্নামেন্টে ফিরে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এই ১৯ বছরের তরুণ। গোল না পেলেও তাঁর ড্রিবল ও গতি বিপক্ষ দলের রক্ষণভাগকে সবসময় তটস্থ রেখেছিল। কিন্তু এত কিছুর পরেও ফিফার সেরা একাদশে জায়গা মেলেনি তাঁর।

ফিফার সর্বস্বীকৃত অফিশিয়াল বিশ্বকাপ দল:
ভোজিনহা (কেপ ভার্দে), মার্ক কুকুরেয়া (স্পেন), লিসান্দ্রো মার্টিনেজ (আর্জেন্টিনা), ডায়োট উপামেকানো (ফ্রান্স), পেড্রো পোরো (স্পেন), রডরি (স্পেন), জুড বেলিংহ্যাম (ইংল্যান্ড), মাইকেল অলিসে (ফ্রান্স), কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স), আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে), এবং লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)।