আইপিএল ২০২৬-এর উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষস্থান দখল করল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। বুধবার ঘরের মাঠে পঞ্জাব কিংসকে ৩৩ রানে পরাজিত করে লিগ তালিকার এক নম্বরে উঠে এল অরেঞ্জ আর্মি। কিন্তু হায়দ্রাবাদের এই জয়ের গল্পের চেয়েও বেশি চর্চা হচ্ছে পঞ্জাব কিংসের হতশ্রী ফিল্ডিং নিয়ে। খোদ কোচ রিকি পন্টিং স্বীকার করে নিলেন, ক্যাচ মিসের এই ‘অভিশাপ’ যেন তাঁদের পিছু ছাড়ছে না।
হায়দ্রাবাদের ফ্ল্যাট পিচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল সানরাইজার্স। অভিষেক শর্মা মাত্র ১৩ বলে ৩৫ রানের ক্যামিও খেলে বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেন। ট্র্যাভিস হেডও তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন। তবে ম্যাচের আসল চালিকাশক্তি ছিলেন হেনরিখ ক্লাসেন এবং ঈশান কিষাণ। ক্লাসেনের ব্যাট থেকে এল ৪৩ বলে ৬৯ রানের বিস্ফোরক ইনিংস, অন্যদিকে ঈশান করেন ৩২ বলে ৫৫ রান। কিন্তু এই রান হয়তো হতোই না, যদি পঞ্জাবের ফিল্ডাররা একের পর এক সুযোগ নষ্ট না করতেন।
ম্যাচের পর হাহাকার শোনা গিয়েছে অভিজ্ঞ স্পিনার যুজবেন্দ্র চাহালের গলায়। তাঁর বোলিংয়ে শশাঙ্ক সিং এবং লকি ফার্গুসন দুজনেই সহজ ক্যাচ ফসকান। চাহালকে মাঠের মধ্যেই চূড়ান্ত বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা যায়। শুধু ক্যাচ মিসই নয়, ঈশান কিষাণ যখন ক্রিজে থিতু হচ্ছেন, তখন প্রভসিমরন সিং একটি সহজ স্টাম্পিংয়ের সুযোগ নষ্ট করেন। এই ‘জীবনদান’ কাজে লাগিয়ে হায়দ্রাবাদ ৪ উইকেটে ২৩৫ রানের বিশাল পাহাড় গড়ে তোলে।
পঞ্জাবের হয়ে বল হাতে হতাশ করেছেন মার্কো জানসেন এবং অর্শদীপ সিং। এই দুই পেসার মিলে খরচ করেছেন ১০৪ রান। ম্যাচের ইনিংস বিরতির সময় কোচ রিকি পন্টিং নিজের ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেননি। তিনি বলেন, “আমি কোনো অজুহাত দেব না। এই পর্যায়ের ক্রিকেটে যদি আপনি সুযোগ হাতছাড়া করেন, তবে মাশুল দিতেই হবে। ফ্লাডলাইটের আলো বা অন্য কোনো কারণকে দায়ী করে লাভ নেই।” পন্টিং বিশেষভাবে চোট সারিয়ে ফেরা শশাঙ্ক সিংয়ের ফিল্ডিং নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
শেষের দিকে নীতিশ রেড্ডির অপরাজিত ২৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস হায়দ্রাবাদকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যায়। জবাবে ব্যাট করতে নেমে পঞ্জাব কিংস লড়াই করার চেষ্টা করলেও হায়দ্রাবাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও বিশাল রানের চাপের কাছে হার মানতে বাধ্য হয়। আইপিএলের এই আসরে সানরাইজার্সের এই দাপট বাকি দলগুলোর জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা।





