আইএসএলের ইতিহাসে এবারই প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার একেবারে দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ইস্টবেঙ্গল এফসি। আগামী ১৭ মে ডার্বিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে হারাতে পারলেই বহু প্রতীক্ষিত আইএসএল ট্রফি উঠতে পারে লাল-হলুদের ঘরে। কিন্তু মাঠের এই সম্ভাব্য সোনালী সাফল্যের মাঝেও পর্দার আড়ালে ক্লাবের ভবিষ্যৎ ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশাল অনিশ্চয়তা। সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি এখন লেসলি ক্লডিয়াস সরণির আনাচে-কানাচে ঘুরপাক খাচ্ছে, তা হলো— আগামী মরশুমেও কি ইনভেস্টর হিসেবে থাকবে ইমামি গ্রুপ?
ময়দানের অন্দরের খবর বলছে, সেই সম্ভাবনা বর্তমানে খুবই ক্ষীণ। যদিও সংস্থার কর্ণধার আদিত্য আগরওয়াল এখনও প্রকাশ্যে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে চাননি। তাঁর কথায়, “বিষয়টি নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।” কিন্তু বাস্তবের পরিস্থিতি এবং ময়দানের সমীকরণ বলছে অন্য কথা। গত কয়েক বছরে দল গড়তে এবং ফুটবল পরিকাঠামো উন্নয়নে নির্ধারিত বাজেটের থেকেও বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করেছে ইমামি গ্রুপ। ক্লাব সূত্রের খবর, ফুটবল টিম চালাতে গিয়ে খরচের অঙ্ক লাগামছাড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ ফুটবল ইমামি গ্রুপের মূল ব্যবসা নয়, বরং এটি তাদের সিএসআর বা ব্র্যান্ডিংয়ের অংশ মাত্র।
ফলে প্রতি মরশুমে কোটি কোটি টাকার এই বিশাল বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে চালিয়ে যাওয়া কর্পোরেট সংস্থাটির পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। শুধু আর্থিক চাপই নয়, ভারতীয় ফুটবলের সামগ্রিক অনিশ্চয়তাও ইমামির আগ্রহে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। আইএসএলের ভবিষ্যৎ কাঠামো, পরের মরশুমের ক্যালেন্ডার কিংবা এআইএফএফ-এর প্রতিযোগিতার রূপরেখা— কোনো কিছুই এখনও কর্পোরেটদের কাছে স্পষ্ট নয়। এই ধোঁয়াশা বড় বিনিয়োগকারীদের স্বাভাবিকভাবেই চিন্তায় ফেলছে। খবর মিলেছে, ফুটবলারদেরও নাকি বিকল্প পরিকল্পনা ভেবে রাখতে বলা হয়েছে। এমনকি দলের হেড কোচ অস্কার ব্রুজোঁ নিজেও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী মরশুমে তিনি হয়তো আর লাল-হলুদ ডাগআউটে থাকবেন না।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, ইমামি সরে গেলে ইস্টবেঙ্গলের পথ কোন দিকে? অতীতেও একাধিকবার আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছিল শতাব্দীপ্রাচীন এই ক্লাব। তখন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে এবং শীর্ষ স্তরের উদ্যোগে ইমামি গ্রুপকে আনা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে আবার নতুন লগ্নিকারী খুঁজে পাওয়া বিশাল চ্যালেঞ্জ। ক্লাব কর্তারা যেমন চেষ্টা চালাচ্ছেন, তেমনই কয়েক লক্ষ সমর্থক তাকিয়ে রয়েছেন নতুন সরকারের সম্ভাব্য পদক্ষেপের দিকে।
তবে ফুটবলে শেষ কথা বলে কিছু হয় না। ১৭ মে যদি ডার্বিতে ঐতিহাসিক জয় আসে এবং আইএসএল ট্রফি প্রথমবারের জন্য ইস্টবেঙ্গলের হাতে ওঠে, তবে আবেগের ঢেউ অনেক সমীকরণ বদলে দিতে পারে। ডার্বি জয়ের বাণিজ্যিক আকর্ষণ এবং সমর্থকদের উন্মাদনা হয়তো ইমামি গ্রুপকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে। তাই রবিবারের ডার্বি শুধু মাঠের লড়াই নয়, এটি ইস্টবেঙ্গলের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইও বটে।





