ফুটবল বিশ্বের বর্তমান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন এক ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র—কেপ ভার্দে। সেন্ট্রাল আটলান্টিক সাগরে অবস্থিত মাত্র ৫ লক্ষ ২৪ হাজার ৮৭৭ জনসংখ্যার এই পশ্চিম আফ্রিকান দেশটি বিশ্বমঞ্চে এখন এক বিস্ময়ের নাম। বিশ্বকাপের যোগ্যতানির্ণায়ক পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর, মূল মঞ্চে এসেই ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রুখে দিয়ে তারা বুঝিয়ে দিয়েছে—তারা কেবল অংশগ্রহণের জন্য আসেনি, বরং ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যেই এসেছে।
জনসংখ্যার বিচারে আইসল্যান্ড ও কুরাসাওয়ের মতো বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে তারা জায়গা করে নিয়েছে। অথচ এই দেশটির ফুটবলীয় উত্থান যেন এক রূপকথা। যোগ্যতা অর্জন পর্বের ১০টি ম্যাচের মধ্যে ৭টিতে জয়লাভ করে তারা ক্যামেরুনের মতো আফ্রিকান জায়ান্টদের পেছনে ফেলে মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। আর অভিষেকেই স্পেনের মতো শক্তিশালী দলকে রুখে দিয়ে তারা তকমা পেয়েছে ‘জায়ান্টকিলার’-এর।
তবে এই ছোট্ট দেশটির সঙ্গে বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর এক গভীর ও অজানা যোগসূত্র রয়েছে। পর্তুগালের মাদেইরাতে জন্ম হলেও, রোনাল্ডোর পারিবারিক শিকড় প্রোথিত রয়েছে কেপ ভার্দের সাও ভিনসেন্টে দ্বীপে। রোনাল্ডোর বাবার ঠাকুরদা জোসে দিনেস আভেইরা ছিলেন কেপ ভার্দের মানুষ। তাঁর মা, রোজা ইসাবেল মাত্র ১৬ বছর বয়সে দ্বীপরাষ্ট্রটি ছেড়ে পর্তুগালে পাড়ি দিয়েছিলেন। পরবর্তী প্রজন্ম হয়ে সেই রক্তই আজ রোনাল্ডোর ধমনিতে বইছে। কেবল রোনাল্ডো নন, সুইডেনের কিংবদন্তি হেনরিক লারসন এবং ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের প্রাক্তন তারকা নানির ধমনিতে বইছে কেপ ভার্দের উত্তরাধিকার।
১৯৭৫ সালে পর্তুগালের থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর থেকেই দেশটির সাথে পর্তুগিজ ফুটবল সংস্কৃতির এক অদ্ভুত মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে। বর্তমান দলের অধিকাংশ ফুটবলারের জন্মও পর্তুগালের মাটিতে। মাত্র ১৩ বছর আগে, ২০১৩ সালে প্রথমবার আফ্রিকা কাপ অফ নেশনসে খেলার সুযোগ পায় তারা। তারপর থেকে প্রতিটি ধাপ তারা জয় করেছে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে।
স্পেনের বিরুদ্ধে গোলরক্ষক ভোজিন্হার অসাধারণ পারফরম্যান্স এবং পুরো দলের লড়াকু মানসিকতা ফুটবল প্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছে। মাত্র কয়েক দিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের অনুগামীর সংখ্যা ৫০ হাজার থেকে বেড়ে ৫ মিলিয়নে পৌঁছেছে। ছোট দেশের বড় লড়াইয়ে কেপ ভার্দে এখন বিশ্বকাপের ‘কালো ঘোড়া’ হয়ে ওঠার অপেক্ষায়। ভোজিন্হারা কি পারবে বিশ্বকাপের পরবর্তী ধাপগুলোতে আরও কোনো চমক দেখাতে? সারা বিশ্ব এখন সেই উত্তর খোঁজার অপেক্ষায়।





