মাসিক ভাতা ১০ হাজার, অথচ বাড়িটি রাজপ্রাসাদ! সম্পত্তি-বিতর্কে স্ক্যানারে কাউন্সিলর অনন্যা

রাজনীতিতে নামলেই কি রাতারাতি ভাগ্য বদলায়? শাসকদলের ছত্রছায়ায় থাকলে কি সাধারণ মানুষও ‘মহারাণী’ হয়ে উঠতে পারেন? কলকাতা পুরসভার ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বিতর্কিত উত্থান ও তাঁর বিলাসবহুল জীবনযাপন এখন এই প্রশ্নগুলোকেই জোরালো করে তুলেছে।

বিলাসবহুল ‘রাজপ্রাসাদ’ ও আয়ের উৎস নিয়ে ধোঁয়াশা: সন্তোষপুর অ্যাভিনিউয়ের বুকে অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে অট্টালিকাটি রয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের অন্ত নেই। স্থানীয়দের দাবি, বছর চারেক আগেও সেখানে ছিল একটি সাধারণ দোতলা বাড়ি। অথচ বর্তমানে সেখানে মাথা তুলেছে এক বিশাল প্রাসাদোপম ভবন, যাতে রয়েছে অত্যাধুনিক লিফট, গ্লাসরুম-সহ নানা বিলাসিতার সরঞ্জাম। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, একজন জনপ্রতিনিধির সরকারি মাসিক ভাতা যেখানে মাত্র ১০ হাজার টাকা, সেখানে এত কম সময়ে এমন রাজকীয় বাড়ি তৈরির অর্থ এল কোথা থেকে?

পার্টি অফিসে বিতর্কিত বস্তু: শুধু বাড়িই নয়, সম্প্রতি অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুকুন্দপুরের ওয়ার্ড অফিস নিয়েও উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে ওই অফিসে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযোগ, অফিস থেকে উদ্ধার হয়েছে কন্ডোম, ম্যাসাজ মেশিন এবং মেক-আপ রুম। এমনকি, সেখানে পাওয়া ডায়েরিতে প্রোমোটার, চাকরিপ্রার্থী এবং সরকারি চাকরির হিসাব সংক্রান্ত একাধিক নথি পাওয়া গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এই ঘটনায় ওয়ার্ড অফিসকে কেন্দ্র করে তোলাবাজি ও নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগও নতুন করে দানা বেঁধেছে।

রাজনৈতিক মহলে শোরগোল: এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদেই এলাকায় একচ্ছত্র ক্ষমতা কায়েম করেছিলেন অনন্যা। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার করেই এই বিপুল সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন তিনি। অতীতে পুর অধিবেশনেও তাঁর এই ‘হাতি বাড়ি’ (বাড়ির নিচে হাতির আদলে গঠন) নিয়ে সরব হয়েছিলেন বিরোধী কাউন্সিলররা।

পাল্টাবদলের আবহাওয়ায় এখন কাউন্সিলরের এই বিলাসবহুল সাম্রাজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—আইনের ফাঁক গলে কি সত্যিই এমন ‘আলাদিনের প্রদীপ’ রয়েছে অনন্যার হাতে? তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy