২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ফিফা এমন এক সিদ্ধান্ত নিল যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সাধারণত বড় টুর্নামেন্টের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়, কিন্তু বিশ্বকাপের ঠিক কয়েকদিন আগে স্টেডিয়ামে জল পানের বোতল নিয়ে ফিফার এই নীতি বদল সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সংশোধিত নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো দর্শকই স্টেডিয়ামের ভিতরে কোনো প্রকার পুনর্ব্যবহারযোগ্য বা রিফিলযোগ্য জলের বোতল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত ফিফার নিয়ম ছিল বেশ নমনীয়। তখন জানানো হয়েছিল, দর্শকরা সর্বোচ্চ এক লিটার ধারণক্ষমতার স্বচ্ছ ও খালি প্লাস্টিকের রিফিলযোগ্য বোতল সঙ্গে রাখতে পারবেন এবং স্টেডিয়ামের ভিতরে থাকা ফাউন্টেন থেকে জল ভরে নিতে পারবেন। কিন্তু বিশ্বকাপের সূচি চূড়ান্ত হওয়ার প্রাক্কালে সেই সিদ্ধান্তে ইউ-টার্ন নিল ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ফিফার নতুন ‘স্টেডিয়াম কোড অব কন্ডাক্ট’-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার স্বার্থেই এই পুনর্ব্যবহারযোগ্য বোতলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
ফিফার দাবি, স্টেডিয়ামের মধ্যে উগ্র আচরণ বা ভিড়ের মধ্যে বোতল ছোড়াছুড়ির মতো অনভিপ্রেত ঘটনা রুখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে সমর্থকদের একাংশের অভিযোগ, নিরাপত্তার যুক্তি আসলে একটি অজুহাত মাত্র। তাঁদের মতে, দর্শকদের বাধ্য করা হচ্ছে স্টেডিয়ামের ভেতরে চড়া দামে বিক্রি হওয়া বোতলজাত জল কিনতে। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকা—অর্থাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর প্রচণ্ড গরমে ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামের ভেতর পর্যাপ্ত জল সরবরাহ না থাকলে বড়সড় স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।
পরিবেশবিদরাও ফিফার এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, রিফিলযোগ্য বোতলে নিষেধাজ্ঞা মানেই স্টেডিয়ামে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতলের পাহাড় জমবে, যা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করবে। যদিও ফিফা আশ্বস্ত করেছে যে, স্টেডিয়ামের ভেতরে সাশ্রয়ী মূল্যে পানীয় জল থাকবে এবং গরমের কথা মাথায় রেখে মিস্টিং স্টেশনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এভাবে নিয়ম বদলে ফেলায় সাধারণ দর্শকদের মধ্যে বিভ্রান্তি বেড়েছে। ইতিমধ্যে যারা টিকিট কেটেছেন, তাঁদের ই-মেইলের মাধ্যমে এই নতুন বিধিনিষেধ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বিশ্বকাপের উত্তেজনার মাঝে এই জল নীতি দর্শকদের অভিজ্ঞতায় কতটা প্রভাব ফেলে।





