ইরানের অন্দরে নতুন করে অস্থিরতার গুঞ্জন। সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্প্রতি এক বিবৃতিতে দেশের নাগরিকদের সতর্ক করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ চালাচ্ছে। সামরিক শক্তির বদলে শত্রু রাষ্ট্রগুলো এখন দেশের ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি করে সরকারের পতন ঘটানোর ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ তাঁর।
মূলত তিনটি কারণে ইরান বর্তমানে এই অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ নিয়ে প্রবল আতঙ্কিত। প্রথমত, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রকাশ্যে না আসা এবং কেবল লিখিত বার্তার ওপর নির্ভরতা ঘিরে জনমানসে নানা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয়ত, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরাসরি আহ্বান—যিনি প্রকাশ্যে ইরানের জনগণকে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসার প্ররোচনা দিয়েছেন। নেতানিয়াহুর দাবি, ইরান সরকার পতনের দ্বারপ্রান্তে। তৃতীয়ত, চলতি বছরের মে মাসে ইরাকি সীমান্তে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ আমেরিকান অস্ত্র, যা বিদ্রোহে ইন্ধন জোগাতে ইরানে পাচার করা হচ্ছিল বলে দাবি করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড।
খোমেনির ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় মোজতবা খামেনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শত্রুপক্ষ মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের মাধ্যমে মানুষকে হতাশ করার চেষ্টা করছে। জনগণের মধ্যে ক্ষোভ উসকে দেওয়া যে কোনো পদক্ষেপ আদতে শত্রুর হাতকেই শক্তিশালী করবে। এই পরিস্থিতিতে দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এখন তেহরানের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।





