চলতি আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের (KKR) প্লে-অফের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার অন্যতম কারিগর ছিলেন তরুণ ব্যাটার অঙ্গকৃশ রঘুবংশী। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ লিগ টেবিলের শেষ ম্যাচের আগে পার্পল ব্রিগেড শিবিরে এল এক দুঃসংবাদ। আঙুলে গুরুতর চোটের কারণে চলতি আইপিএল থেকে ছিটকে গেলেন কেকেআরের এই স্টাম্পার-ব্যাটার। রবিবার দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে মরণবাঁচন লড়াইয়ের আগে রঘুবংশীর অনুপস্থিতি দলের জন্য বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
টুর্নামেন্টের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি আইপিএলে ১৩টি ম্যাচে ৪২২ রান সংগ্রহ করেছেন রঘুবংশী, যা কেকেআর ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রায় ১৫০ স্ট্রাইক রেট এবং ৪২.২০ গড়ে ব্যাটিং করে তিনি দলকে বারবার বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। লিগের প্রথম ছয় ম্যাচে জয়ের মুখ না দেখা কেকেআর যখন টুর্নামেন্টের বিজনেস এন্ডে এসে প্লে-অফের দৌড়ে টিকে রয়েছে, তখন সাতটি হাফ-সেঞ্চুরির মালিক রঘুবংশীর অভাব যে প্রকট হবে, তা বলাই বাহুল্য।
ঘটনার সূত্রপাত মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ম্যাচে। ফিল্ডিং করার সময় সতীর্থ বরুণ চক্রবর্তীর সঙ্গে সংঘর্ষে রঘুবংশী কনকাশনের শিকার হন। সেই সময় তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামেন তেজস্বী দাহিয়া। পরবর্তীতে মেডিকেল পরীক্ষায় ধরা পড়ে যে তাঁর বাঁ-হাতের আঙুলে চিড় ধরেছে। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে কেকেআর ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। রবিবার দিল্লির বিরুদ্ধে তো বটেই, দল যদি প্লে-অফে পৌঁছায়, তবুও রঘুবংশীর খেলার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাঁর পরিবর্তে সম্ভবত তেজস্বী দাহিয়াকেই উইকেটের পিছনে দেখা যাবে। ফিল্ডিং কোচ দিশান্ত যাজ্ঞিক তাঁকে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ কিপিং প্র্যাকটিসও করিয়েছেন।
এদিকে রবিবার ইডেন গার্ডেন্সে চলতি আইপিএলের শেষ ম্যাচ। এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে সিএবি (CAB) কর্তৃপক্ষ এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে। ইনিংস বিরতিতে ২ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের একটি বিশেষ ভিডিও প্রদর্শিত হবে, যেখানে ইডেনের সোনালি ইতিহাসের কোলাজ তুলে ধরা হবে। ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল, ১৯৯০ সালে বাংলার প্রথম রঞ্জি জয়, কিংবা ২০০১ সালে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়ার অশ্বমেধের দৌড় থামিয়ে দেওয়া—সবই ফুটে উঠবে এই ভিডিওতে। এছাড়া কেকেআরের ২০১২, ২০১৪ ও ২০২৪ সালের আইপিএল জয়ের স্মৃতিও দর্শকদের রোমাঞ্চিত করবে।
তবে সব উত্তেজনার মাঝেও চিন্তা বাড়িয়ে দিচ্ছে প্লে-অফের সমীকরণ। রবিবার বিকেলে রাজস্থান রয়্যালস বনাম মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ম্যাচের ফলের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করছে নাইটদের ভবিষ্যৎ। রয়্যালস যদি সেই ম্যাচে জয়ী হয়, তবে তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের বিদায় নিশ্চিত। অর্থাৎ, দিল্লির বিরুদ্ধে জয়ের পাশাপাশি অন্য ম্যাচের ফলাফলের দিকেও তাকিয়ে থাকবে কলকাতা। সব মিলিয়ে, এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়েও ইডেন আজ এক ঐতিহাসিক উদযাপনের অপেক্ষায়।





