আইপিএল ২০২৬-এর উত্তাপ এখনও কমেনি। বিরাট কোহলি এবং রজত পাতিদারের নেতৃত্বে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB) টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি জেতায় দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ। তবে সেই আনন্দ রেশ কাটতে না কাটতেই ভারতীয় ক্রিকেটে এল বড়সড় আপডেট। আগামী শনিবার, ৬ জুন থেকে নিউ চণ্ডীগড়ের মাটিতে শুরু হতে চলেছে ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যকার রোমাঞ্চকর টেস্ট ম্যাচ। যদিও এই ম্যাচটি আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (WTC)-এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তবুও এই সিরিজের আগে ভারতীয় দলের কোচিং প্যানেলে আনা হলো এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। ভারতীয় দলের স্পিন বোলিং কোচের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন ক্রিকেটার সাইরাজ বাহুতুলে-র কাঁধে।
বিসিসিআই-এর এই সিদ্ধান্তের ফলে কুলদীপ যাদব, বরুণ চক্রবর্তী এবং অক্ষর প্যাটেলদের মতো তারকা স্পিনাররা এবার সাইরাজের অধীনে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। সাইরাজ বাহুতুলের অভিজ্ঞতা ভারতীয় স্পিন বিভাগকে আগামী ম্যাচগুলোতে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাইরাজ বাহুতুলের আন্তর্জাতিক কেরিয়ার যেমন বর্ণময়, কোচিং কেরিয়ারও ঠিক তেমনই ঈর্ষণীয়। ১৯৯৭ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ভারতের জার্সিতে ২টি টেস্ট এবং ৮টি ওডিআই ম্যাচ খেলেছেন তিনি। যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর উইকেটের সংখ্যা মাত্র ৪, তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর পারফরম্যান্স কিংবদন্তিসম। ১৮৮টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৬৩০টি উইকেট শিকার করা সাইরাজকে এক সময় ভারতের শ্রেষ্ঠ স্পিনার অলরাউন্ডার হিসেবে গণ্য করা হতো। তাঁর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর অপরাজিত ১৩৪ রান, যা প্রমাণ করে ব্যাট হাতেও তিনি কতটা দক্ষ।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করে সাইরাজ বাহুতুলে বলেন, “ভারতীয় পুরুষ দলের স্পিন বোলিং কোচের দায়িত্ব পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের এবং সম্মানের বিষয়। খেলোয়াড় হিসেবে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার পর, কোচ হিসেবে পুনরায় এই দলে কাজ করতে পারা স্বপ্নের মতো। আমার মূল লক্ষ্য হলো সব ফরম্যাটে দলের স্পিনারদের সেরা পারফরম্যান্স নিশ্চিত করা।”
উল্লেখ্য, কোচ হিসেবে সাইরাজের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত বিস্তৃত। বিদর্ভ, কেরল, গুজরাট এবং বাংলা দলের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার বোলিং কোচের দায়িত্ব তিনি সাফল্যের সঙ্গে সামলেছেন। এছাড়া বিসিসিআই-এর ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’-এ সাড়ে তিন বছর কোচিং করানোর পাশাপাশি ২০২২ এবং ২০২৪ সালে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বোলিং কোচ হিসেবেও তিনি বিশ্বমঞ্চে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি দলগুলোতেও তাঁর কৌশলগত কোচিং বেশ প্রশংসিত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সাইরাজের হাত ধরে ভারত-আফগানিস্তান টেস্ট সিরিজে ভারতীয় স্পিনাররা কতটা বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারেন।





