আইপিএলে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখার পর এবার দেশের জার্সিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও ঝড় তুললেন ১৫ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী। আফগানিস্তান ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে সিরিজের ম্যাচে তার ব্যাটিং দাপট যেন আবারও প্রমাণ করে দিল, ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কতটা উজ্জ্বল। চাপের মুখেও যেভাবে তিনি আফগান বোলারদের মাঠের চারদিকে শাসন করেছেন, তা দেখে মুগ্ধ ক্রিকেটপ্রেমীরা।
ম্যাচটিতে বৈভব তার ওপেনিং পার্টনার প্রভসিমরন সিংয়ের সঙ্গে জুটি বেঁধে ভারতীয় দলকে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মোডে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাদের দুর্দান্ত ওপেনিং পার্টনারশিপের সৌজন্যে মাত্র ৮ ওভারেই ভারত ৭৪ রান সংগ্রহ করে ফেলে। বৈভব এদিন মাত্র ২২টি বলের মুখোমুখি হয়েছিলেন, যার মধ্যে ছিল ৯টি দর্শনীয় বাউন্ডারি। তার ২০০-র স্ট্রাইক রেট প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর শুরু থেকেই প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছিল।
তবে ইনিংসটি দীর্ঘ করতে পারেননি এই তরুণ তুর্কি। আফগানিস্তানের বোলার মহম্মদ ইশাকের বলে একটি আপার কাট শট খেলার প্রচেষ্টায় উইকেটকিপারের হাতে ধরা পড়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। আবদুল্লাহ আহমদজাইয়ের অষ্টম ওভারে ছোট লেংথের বলটিকে উইকেটকিপারের মাথার ওপর দিয়ে পাঠানোর চেষ্টাটি শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। যদিও হাফসেঞ্চুরি হাতছাড়া হওয়ায় কিছুটা হতাশ ছিলেন বৈভব, কিন্তু তার এই ২২ বলে ৪৪ রানের ইনিংসটি ভারতীয় দলের ভিত গড়ে দিতে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে ১২ বলে ১৪ রান করে আউট হওয়ার পর বৈভবের ওপর আজ বাড়তি প্রত্যাশা ছিল। যদিও বড় ইনিংস খেলা হয়নি, তবুও মাঠে তার আত্মবিশ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। সম্প্রতি ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ক্রিকেট মহলের নজরে রয়েছেন এই বিস্ময় বালক।
বৈভবের এই আগ্রাসী ব্যাটিং শৈলী ও প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা জানান দিচ্ছে, বয়সের তুলনায় তিনি অনেক বেশি পরিণত। এই ম্যাচে অর্ধশতরান মিস করলেও ইনিংসের শুরুতে যেভাবে প্রভসিমরনের সঙ্গে ৭৪ রানের জুটি গড়েছেন, তা ভারতীয় দলের জয়ের পথ প্রশস্ত করার জন্য যথেষ্ট ছিল। খুদে এই ব্যাটারের নির্ভীক ব্যাটিং বর্তমান প্রজন্মের ক্রিকেটারদের কাছে নতুন এক অনুপ্রেরণা। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ধৈর্য বজায় রেখে বড় ইনিংস খেলার অভ্যাস করতে পারলে বৈভব সূর্যবংশী অদূর ভবিষ্যতে ভারতীয় দলের নিয়মিত মুখ হয়ে উঠবেন। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তার এই পারফরম্যান্স কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং ভারতীয় ক্রিকেটের পাইপলাইনে থাকা প্রতিভার উজ্জ্বল প্রতিফলন।





