অস্ট্রেলিয়া সফরের ঠিক আগে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) এক সাহসী এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোহিত শর্মাকে ওয়ানডে (ওডিআই) ফরম্যাটের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে এই গুরুদায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে তরুণ ওপেনার শুভমান গিলের হাতে। ক্রিকেট মহলে এই সিদ্ধান্ত ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, বিশেষত যখন কয়েক মাস আগেই রোহিতের নেতৃত্বে ভারত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছিল এবং তিনি ফাইনালের ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ হয়েছিলেন।
কেন রোহিতের নেতৃত্ব গেল?
রোহিত শর্মার নেতৃত্বে ভারতীয় দল গত কয়েক বছরে ওয়ানডে ক্রিকেটে অসাধারণ সাফল্য পেয়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে তাঁর ঝোড়ো ব্যাটিং এবং নেতৃত্ব দলকে ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছিল। যদিও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফাইনালে হার ভারতীয় সমর্থকদের মন ভেঙে দেয়।
রোহিত বারবার জানিয়েছিলেন যে ২০২৭ সালের বিশ্বকাপে খেলার প্রবল ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। টি২০ বিশ্বকাপ (২০২৪) এবং টেস্ট ক্রিকেট (২০২৪)-এর নেতৃত্ব থেকে অবসর নেওয়ার পর ওডিআইই ছিল তাঁর একমাত্র ফোকাস। তবে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই ইচ্ছাকেই প্রশ্নচিহ্নের মুখে ফেলে দিল।
নেতৃত্ব হারানোর পর আবেগপ্রবণ ‘হিটম্যান’
অধিনায়ক হিসেবে ওডিআই বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন তাঁর অসম্পূর্ণ থেকে গেল, এ কথা রোহিত নিজেও জানিয়েছেন। সম্প্রতি একটি ভাইরাল হওয়া পডকাস্টে ক্রিকেট সাংবাদিক বিমল কুমারের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
যখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয় যে, ২০২৩ সালে অধরা থেকে যাওয়া স্বপ্ন কি তিনি ২০২৭ সালে পূরণ করতে চান, রোহিত উত্তর দেন, “অবশ্যই সেই ব্যথা মনে আছে… ভালো লাগবে যদি এমনটা হয় যে ২০২৩-এ যা পূর্ণ হয়নি, সেটা পূর্ণ করতে পারি।” তাঁর এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, নেতৃত্ব হারানোর এই সিদ্ধান্ত তাঁর হৃদয়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে।
ব্যাটার হিসেবে রোহিত ছিলেন অনন্য
অধিনায়ক হিসেবে ছাড়াও, একজন ব্যাটার হিসেবে রোহিত শর্মার পারফরম্যান্স ছিল অনবদ্য। ২০২৩ বিশ্বকাপে তাঁর ঝড়ো শুরু ভারতকে বারবার বড় স্কোর গড়তে সাহায্য করেছিল। যদিও ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁর ৩১ বলে ৪৭ রানের ইনিংসের পর বাকিরা সেভাবে সফল হতে পারেননি, যার ফলে ২৪০ রানে থেমে যায় ভারতের ইনিংস।
এখন দেখার, রোহিত শর্মার মতো অভিজ্ঞ ও সফল অধিনায়ককে সরিয়ে শুভমান গিলের উপর আস্থা রাখার বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে ভারতীয় ক্রিকেটে কী ফল নিয়ে আসে।