হিমাচল প্রদেশে আসন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনের ঠিক আগেই এক নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। শিমলার চিড়গাঁও ব্লকের অন্তর্গত টাংনু এবং জাংলিখ গ্রাম পঞ্চায়েতে বার্ধক্যকালীন পেনশন নিয়ে এক বিশাল কেলেঙ্কারি উদ্ঘাটন করেছে জেলা সমাজকল্যাণ দপ্তর। অভিযোগ উঠেছে, মাত্র ৪৪ থেকে ৫৫ বছর বয়সী ব্যক্তিরা জাল নথিপত্রের মাধ্যমে নিজেদের ‘বৃদ্ধ’ সাজিয়ে সরকারি পেনশন পকেটে পুরছেন। এই ঘটনায় খোদ পঞ্চায়েত প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
জেলা সমাজকল্যাণ কর্মকর্তাদের তদন্তে উঠে এসেছে যে, টাংনু এবং জাংলিখ গ্রামের প্রায় ৪৪ জন ব্যক্তি জালিয়াতির মাধ্যমে এই সুবিধা নিচ্ছিলেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিদেরই বার্ধক্যকালীন পেনশন দেওয়া হয়। কিন্তু এখানে ১৯ জন মহিলা এবং ২৬ জন পুরুষ, যাদের প্রকৃত বয়স ৪৪ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে, তারা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ষাটোর্ধ্ব প্রবীণদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন।
তদন্তে জানা গেছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অভিযুক্তরা জাল জন্ম শংসাপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই দুর্নীতিতে সরাসরি মদত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে যে, পঞ্চায়েত সদস্যরা রেজিস্টার খাতা ও সরকারি নথিপত্রে কারচুপি করে এই ব্যক্তিদের বয়স বাড়িয়ে দেখিয়েছেন যাতে তারা অন্যায্যভাবে পেনশনের টাকা পান। জেলা সমাজকল্যাণ দপ্তর ইতিমধ্যেই ইমেলের মাধ্যমে স্থানীয় থানায় একটি এফআইআর দায়ের করেছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, গ্রামবাসীদের মধ্যে আগে থেকেই পঞ্চায়েতের কার্যকলাপে সন্দেহ দানা বেঁধেছিল। বর্তমানে পুলিশ এই মামলার ৪৪ জন অভিযুক্তকে শনাক্ত করেছে এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, তবে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন যে এর পেছনে বড় কোনো চক্র কাজ করছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে এমন কেলেঙ্কারি রাজনৈতিক মহলেও তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।





