“৫৩০ থেকে একলাফে ৪৩০০!”-বাংলার গ্রামে গ্রামে RSS-এর ‘সাইলেন্ট’ মেরুকরণ; চিন্তায় মমতা?

প্রচারের সব আলো কেড়ে নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কিংবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বড় বড় জনসভা আর হাই-ভোল্টেজ রোড শো-তে কাঁপছে বাংলা। কিন্তু এই চড়া সুরের আড়ালে, লোকচক্ষুর অন্তরালে এক অন্য লড়াইয়ের প্রস্তুতি সারছে আরএসএস (RSS) বা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ। কোনো ঢাকঢোল না পিটিয়ে, নিভৃতে গ্রাসরুট লেভেলে হিন্দু ভোটকে একসূত্রে গেঁথে ফেলতে ‘মিশন বেঙ্গল’-এ নেমে পড়েছে সঙ্ঘ পরিবার।

৪,৩০০ শাখার ‘সাইলেন্ট’ সার্জিক্যাল স্ট্রাইক

একটা সময় পশ্চিমবঙ্গে আরএসএস-এর শাখার সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। মাত্র ১৫ বছর আগে রাজ্যে শাখার সংখ্যা ছিল ৫৩০টি। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেই সংখ্যা একলাফে দাঁড়িয়েছে ৪,৩০০-এ। এই বিপুল সাংগঠনিক শক্তিকে কাজে লাগিয়েই এবারের নির্বাচনে সঙ্ঘ তার রণকৌশল সাজিয়েছে। উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ— তিন ভাগে ভাগ করে চলছে নিবিড় জনসংযোগ।

চায়ের দোকান থেকে মন্দির: টার্গেট ‘হিন্দু ভোট’

সঙ্ঘ সূত্রের খবর, বড় জনসভার বদলে তারা জোর দিচ্ছে ছোট ছোট বৈঠকের ওপর। কোনো রাজনৈতিক ব্যানার ছাড়াই স্বয়ংসেবক ও সন্ন্যাসীরা পৌঁছে যাচ্ছেন মানুষের ড্রয়িং রুমে। চায়ের দোকান কিংবা মন্দির চত্বরে ঘরোয়া আলোচনার মাধ্যমে একটাই বার্তা দেওয়া হচ্ছে— ‘এটি হিন্দু সমাজের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’। ২৫০টি আসনে ইতিমধ্যেই লক্ষাধিক ‘ভোটার সচেতনতা’ সভা করা হয়েছে বলে দাবি।

সঙ্ঘের ‘পঞ্চ পরিবর্তন’ কৌশল

সরাসরি দলীয় রাজনীতি এড়াতে আরএসএস সামনে রেখেছে পাঁচটি সামাজিক ইস্যু। যা তারা ‘পঞ্চ পরিবর্তন’ নামে অভিহিত করছে:

  • সামাজিক সম্প্রীতি ও পারিবারিক মূল্যবোধ।

  • পরিবেশ সচেতনতা।

  • স্বদেশী ভাবনা।

  • নাগরিক দায়িত্ব পালন।

  • সামাজিক পরিবর্তন।

পাশাপাশি, প্রতিটি বুথ স্তরে ছোট ছোট সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ তৈরি করে নির্দিষ্ট বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে যাতে ভোটের মেরুকরণ সুনিশ্চিত করা যায়।

ভোটের দিনের রণকৌশল: ‘নোটা’ বর্জন

ভোটের দিন ভোটারদের আলস্য কাটাতে সঙ্ঘের স্লোগান— ‘আগে ভোট, পরে সকালের জলখাবার’। লক্ষ্য হলো, সকালেই যেন বুথমুখী হন হিন্দু ভোটাররা। শুধু তাই নয়, বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ‘নোটা’ (NOTA) এড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। সঙ্ঘের স্পষ্ট বার্তা, কোনোভাবেই যেন হিন্দু ভোট বিভক্ত না হয়।

সতর্ক মমতা, তুঙ্গে সংঘাত

সঙ্ঘের এই নীরব সক্রিয়তা নজর এড়ায়নি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি সরাসরি আরএসএস-কে নিশানা করে ভোটারদের সতর্ক থাকার বার্তা দিচ্ছেন। তাঁর মতে, উন্নয়নের রাজনীতিকে আড়াল করতে গেরুয়া শিবির বিভাজনের জাল বুনছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, মোদী-শাহর বড় মঞ্চের ভাষণের চেয়েও সঙ্ঘের এই ‘নীরব প্রচার’ নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে তুরুপের তাস হয়ে উঠতে পারে। উন্নয়নের কার্ড বনাম হিন্দুত্বের মেরুকরণ— শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি কে হাসে, তা দেখার অপেক্ষায় গোটা রাজ্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy