মুখ্যমন্ত্রীর গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যে জুটছে কেবল দুর্ভোগ আর আতঙ্ক। চিরেয়ান মহোবা মোড় থেকে বাউন্সি বাঁধ পর্যন্ত সড়কটির মেরামতের জন্য ৪৬৩.৮৭৩ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে। কিন্তু সরকারি খাতার এই বিশাল অঙ্কের টাকার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। প্রায় ৫.৫৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটি বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বদলে একটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
রাস্তাটির অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, জায়গায় জায়গায় পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির জল জমে সেই গর্তগুলো এখন পুকুরের রূপ নিয়েছে, যার ফলে যাতায়াত করা রীতিমতো জীবন বাজি রাখার সমান। ভারী যানবাহন থেকে শুরু করে দু’চাকার চালক—সকলকেই প্রতিদিন চরম ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে এই পথ অতিক্রম করতে হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে যে, মেরামতের নামে কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত ধীর গতিতে কাজ করছে। অনেক জায়গায় কেবল ধারালো কাঁকর ও পাথরের গুঁড়ো বিছিয়ে কাজ অসম্পূর্ণ ফেলে রাখা হয়েছে, যা টায়ার ফেটে যাওয়া বা পিছলে পড়ে দুর্ঘটনার সম্ভাবনাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই রাস্তাটি চন্দন বাঁধ, বাউন্সোই এবং পার্শ্ববর্তী আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদকে সংযুক্ত করে। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। ধুলোবালি এবং পিচ্ছিল রাস্তার কারণে পথচারীরাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে ঠিকাদার দায়সারাভাবে কাজ করছেন। তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, দ্রুত মানসম্মত মেরামতের কাজ শেষ না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে।
সবথেকে চাঞ্চল্যকর তথ্যটি পাওয়া গেছে ঠিকাদারের লাগানো একটি সাইনবোর্ড থেকে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, মেরামতের কাজ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়ার কথা ছিল এবং শেষ করার সময়সীমা ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর। অথচ ২০২৬-এর মে মাস চললেও এখনও পর্যন্ত মূল কাজের কোনো দেখাই নেই। এটি ঠিকাদারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট গাফিলতি এবং জনস্বার্থের চরম অবমাননা। এ বিষয়ে বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বিমল কুমার জানান, ঠিকাদারকে অবিলম্বে কাজ শুরু করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মেরামতের কাজ পুরোদমে শুরু হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, কোটি টাকার এই প্রকল্প সাধারণ মানুষের যাতায়াত সত্যিই সুগম করে না কি কেবল দুর্নীতির পকেটে জমা হয়।





