২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে একটা প্রশ্নই রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে— মমতার ২১৫-র ম্যাজিক কীভাবে থমকে গেল মাত্র ৮০-তে? আর বিজেপি কীভাবে এককভাবে পৌঁছে গেল ২০৭-এর ঘরে? এই বিপুল ব্যবধানের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অংকের খেলা, যা ‘ভোট বিভাজন’ বা ভোট কাটাকাটির সমীকরণ হিসেবেই পরিচিত।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য ও ভোট শতাংশ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে অন্তত ৮২টি আসনে হার-জিত নির্ধারিত হয়েছে তৃতীয় প্রার্থীর ঝুলিতে যাওয়া ভোটের সৌজন্যে। অর্থাৎ, তৃণমূল এবং বিজেপির সরাসরি লড়াইয়ের মাঝে বাম-কংগ্রেস জোট বা নির্দল প্রার্থীরা যে ভোট পেয়েছেন, তা যদি যে কোনও এক দিকে যেত, তবে নির্বাচনের ফলাফল একেবারেই অন্যরকম হতে পারত।
নম্বরের খেলায় আসল টুইস্ট: পরিসংখ্যান বলছে, এই ৮২টি আসনে জয়ী প্রার্থীর জয়ের ব্যবধানের চেয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট অনেক বেশি। এই আসনগুলিতে প্রধানত তৃণমূলেরই বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দেখা গেছে, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বা গ্রামীণ এলাকায় নির্দল এবং অন্যান্য ছোট দলগুলি যে পরিমাণ ভোট কেটেছে, তা সরাসরি তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। এর ফলেই জয়ের খুব কাছ থেকেও ফিরতে হয়েছে শাসক শিবিরের একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীকে।
অন্যদিকে, বিজেপি এই ভোট বিভাজনের সরাসরি সুবিধা পেয়েছে। দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ায় অনেক কম ব্যবধানেও বহু আসন পকেটে পুরতে সক্ষম হয়েছে গেরুয়া শিবির। বিশেষ করে জঙ্গলমহল এবং উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু আসনে এই ‘ভোট স্প্লিট’ বিজেপির ২০৭ আসনের ল্যান্ডমার্ক ছোঁয়ার পথ প্রশস্ত করে দিয়েছে।
কেন এই পরিস্থিতি? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্বাচনে মানুষ বাইনারি পলিটিক্স বা দুই মেরুর লড়াই দেখলেও, স্থানীয় স্তরে ক্ষোভ এবং ছোট দলগুলোর সক্রিয়তা বড় ভূমিকা পালন করেছে। এই ৮২টি আসনের ফলাফলই আসলে নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলার নতুন সরকারের ভাগ্য। এখন দেখার, এই ‘ভোট বিভাজনের’ ক্ষত সারিয়ে ফের হারানো জমি ফিরে পেতে আগামী দিনে তৃণমূল কী কৌশল নেয়।





