২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের টানটান উত্তেজনার মধ্যেই এবার বঙ্গ রাজনীতিতে যেন আক্ষরিক অর্থেই বোমা ফাটালেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। নবান্নের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে সরাসরি নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের দিনক্ষণ ঘোষণা করে দিলেন তিনি। শমীকের দাবি, আগামী ২৫শে বৈশাখ অর্থাৎ ৯ মে ব্রিগেডের ঐতিহাসিক ময়দানেই শপথ নিতে চলেছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভা।
ভোটের ফলপ্রকাশের ঠিক পরেই যখন রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত, তখনই নবান্ন চত্বরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা করেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর আত্মবিশ্বাসী বয়ান অনুযায়ী, বাংলার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন এবং সেই রায়কে মান্যতা দিয়েই মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। রবীন্দ্রজয়ন্তীর মতো এক বিশেষ দিনে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র গুঞ্জন।
শুধুমাত্র সরকার গঠনই নয়, ভোট পরবর্তী অশান্তি নিয়েও কড়া হুঁশিয়ারি শোনা গিয়েছে বিজেপি নেতার গলায়। গত কয়েকদিনের বিক্ষিপ্ত হিংসার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে শমীক বলেন, “রাজ্যে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হলে বিজেপি চুপ করে বসে থাকবে না। নতুন মন্ত্রিসভা দায়িত্ব নেওয়ার পরই এই সব ঘটনায় কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে। দোষীদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলাফল পরবর্তী এই পর্যায়ে শমীক ভট্টাচার্যের এমন ঘোষণা আসলে শাসক শিবিরের ওপর মানসিক চাপ বাড়ানোর কৌশল। একদিকে যখন তৃণমূল নিজেদের জয়ের দাবিতে অনড়, তখন নবান্নের সামনে দাঁড়িয়ে শমীকের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ রাজ্য রাজনীতির পারদ এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিল। এখন প্রশ্ন হলো, ২৫-এ বৈশাখ কি সত্যিই বাংলার ক্ষমতায় পালাবদল ঘটতে চলেছে? উত্তর লুকিয়ে রয়েছে সময়ের গর্ভেই।





