কলকাতা পুরনিগমের ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত বানতলার কালীতলা এলাকায় চলছে এক ভয়াবহ মাটি চুরির মহোৎসব। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, একসময়ের ৩২ বিঘা জমি এখন মাটি মাফিয়াদের লোলুপ দৃষ্টিতে সংকুচিত হয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৫ বিঘাতে। রাতের অন্ধকারে বিধায়ক ও কাউন্সিলর বাহিনীর দাপটে স্থানীয় জমি থেকে ট্রাকে ট্রাকে মাটি পাচারের ঘটনায় আতঙ্কিত এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, পালাবদলের পরেও এলাকার চিত্র বদলায়নি, বরং মাটি মাফিয়াদের দাপট বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বিধায়ক জাভেদ খানের অনুগত বাহিনীর একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে এই বানতলা এলাকায়। বাসিন্দাদের দাবি, এই মাফিয়াদের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না। প্রতিদিন রাতের অন্ধকারে শতাধিক ট্রাক বা মিনি ট্রাক ব্যবহার করে জমির উপরিভাগের মাটি কেটে পাচার করা হচ্ছে। লাগাতার মাটি কাটার ফলে জমির সেই অংশে প্রায় ২০ ফুট গভীর গহ্বর তৈরি হয়েছে, যা ওই অঞ্চলের পরিবেশ ও ভূমির স্থিতিশীলতার জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনছে।
বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, গত সোমবার গ্রামবাসী কিছু লরি ও ট্রাক ধরে ফেললেও মাটি মাফিয়াদের দাপট থামেনি। বুধবার বিকেলেও এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাটি কাটার জন্য সেখানে তিনটি বিশাল জেসিবি মেশিন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এদিন বিকেলে গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ দেখালে মাফিয়ারা কাজ ফেলে এলাকা ছেড়ে পালায়।
এই কোটি টাকার মাটি পাচার চক্রের নেপথ্যে কার হাত রয়েছে, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কলকাতা পুলিশের আনন্দপুর থানার অন্তর্গত এই এলাকায় দিনের পর দিন এভাবে মাটি চুরি চললেও পুলিশের নীরবতা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি যুব মোর্চার সদস্যরাও এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। বাসিন্দাদের প্রশ্ন, পুলিশের নাকের ডগায় এভাবে কীভাবে প্রতিদিন কোটি টাকার মাটি পাচার হচ্ছে? কার ইন্ধনে এই চক্রটি এত বেপরোয়া হয়ে উঠল? দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে বানতলার কালীতলা অঞ্চলটি পুরোপুরি মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী মানুষ।





