দিল্লির মালব্য নগরের ফ্লারিশ স্টে হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ জনের প্রাণহানির ঘটনা শুধুমাত্র একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও সুরক্ষা বিধিভঙ্গের এক মর্মান্তিক নজির। প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে, ভবনটিতে পর্যাপ্ত জরুরি বহির্গমন পথ ছিল না এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও ছিল ত্রুটিপূর্ণ। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এর দায় কার?
বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত, হোটেল কর্তৃপক্ষের অদূরদর্শিতা—যাঁরা ফায়ার এনওসি (Fire NOC) ছাড়াই অবৈধ নির্মাণ ও ক্ষমতার অতিরিক্ত অতিথি নিয়ে হোটেল চালিয়েছে। দ্বিতীয়ত, সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সিং ও পরিদর্শনকারী সংস্থাগুলোর গাফিলতি; যাদের কাজ ছিল নিয়মিত তদারকি করা। তৃতীয়ত, স্থানীয় প্রশাসন ও পুরসভার ব্যর্থতা, যারা অবৈধ নির্মাণকে প্রশ্রয় দিয়েছে।
একাধিক বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ভাবমূর্তি ও পর্যটন শিল্প বড় ধাক্কা খেয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে হোটেলের মালিককে আটক করেছে পুলিশ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ২০১৯ সালের ঘটনার পরেও কেন আমরা নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলাম না?
ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় রুখতে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি প্রয়োজন। প্রতিটি হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা অনলাইনে যাচাইযোগ্য করা, মাল্টি-এক্সিট ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। শুধুমাত্র ক্ষতিপূরণ ঘোষণা নয়, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পারে ভবিষ্যতে এমন প্রাণহানি ঠেকাতে।





