তৃণমূল কংগ্রেসের ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষকে ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে। তোলাবাজির অভিযোগে নাম জড়ানোর পর থেকেই বেপাত্তা কাউন্সিলর। যদিও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা ব্যক্তিগত গাড়ির চালক সুজিত চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওড়িশা সীমান্ত সংলগ্ন বেলদা এলাকা থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, কাউন্সিলরের হয়ে হকারদের কাছ থেকে তোলা আদায়ের নেপথ্যে ‘মূল কারিগর’ ছিলেন এই সুজিতই।
ঠিক কী অভিযোগ? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, রুবি মোড় ও সংলগ্ন এলাকায় হকারদের থেকে দীর্ঘ দিন ধরেই মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হচ্ছিল। অভিযোগ, স্থায়ীভাবে ব্যবসা করার প্রলোভন দেখিয়ে হকারদের কাছ থেকে মাথাপিছু প্রায় ৩ লক্ষ টাকা করে নেওয়া হতো। টাকা দিতে অস্বীকার করলেই নেমে আসত নানা হুমকি। কাউন্সিলরের নাম ব্যবহার করেই চলত এই ভয় দেখানো ও আর্থিক জুলুম। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নামে পুলিশ।
বাজেয়াপ্ত কাউন্সিলরের গাড়ি তদন্তের স্বার্থে কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের ব্যবহৃত গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, তোলা আদায়ের কাজে এই গাড়িটিই ব্যবহার করা হতো। গাড়ির অন্দরে আর্থিক লেনদেনের কোনো গোপন প্রমাণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে গাড়িটি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হতে পারে।
কাউন্সিলর কোথায়? ঘটনার পর থেকেই কাউন্সিলরের মোবাইল ফোন বন্ধ। বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েও এখনও তাঁর নাগাল পায়নি পুলিশ। পুলিশের একাংশের দাবি, আইনি ফাঁদে পড়ার আঁচ পেয়েই সুশান্ত ঘোষ গা-ঢাকা দিয়েছেন। এদিকে, ধৃত চালক সুজিত চৌধুরীকে জেরা করে কাউন্সিলরের বর্তমান অবস্থান এবং এই তোলাবাজির চক্র কতটা গভীরে বিস্তৃত, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে তদন্তকারী দল। পাশাপাশি সুজিতের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও কল রেকর্ডও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক উত্তাপ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় জোর রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এটি নিছক বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ও সংগঠিত তোলাবাজি চক্রের অংশ। শাসক দলের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, আইন নিজস্ব গতিতে চলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা ঠিক নয়। তবে কাউন্সিলরের আচমকা ‘নিখোঁজ’ হয়ে যাওয়া ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীর গ্রেফতারি ঘিরে জল্পনা ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। এখন সব নজর পুলিশি তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।





