ওডিশার রাজনীতিতে ক্রমশ কোণঠাসা হচ্ছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং বিজু জনতা দলের (বিজেডি) প্রধান নবীন পট্টনায়েক। টানা ২৪ বছর মসনদে থাকার পর দুবছর আগে বিজেপির কাছে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই বিজেডিতে ধস নেমেছে। এবার সেই ভাঙন যেন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল। দলীয় সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন নবীন-ঘনিষ্ঠ রাজ্যসভার সাংসদ দেবাশিষ সামন্তরায়। তিনি বিজেডির নাগরিক সেলের সহ-সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন, যা দলের অন্দরে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এশিয়ানেট নিউজ বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজেডি ছেড়ে শাসক দল বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনা এখন তুঙ্গে।
দেবাশিষ সামন্তরায়, যিনি দীর্ঘকাল নবীন পট্টনায়কের অত্যন্ত আস্থাভাজন নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তাঁর এই পদক্ষেপ কার্যত দলের সাংগঠনিক কাঠামোর পচনকেই প্রকাশ্যে এনেছে। নবীন পট্টনায়েককে লেখা পদত্যাগপত্রে দেবাশিষ সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, তাঁকে যে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা অপমানজনক এবং তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করার নামান্তর। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ নেতা হওয়া সত্ত্বেও এই ধরনের আচরণ মেনে নিতে পারেননি তিনি।
চিঠিতে কেবল পদ হারানোর ক্ষোভ নয়, দলের বর্তমান শোচনীয় অবস্থার জন্য কঠোর সমালোচনা করেছেন দেবাশিষ। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পরেও বিজেডি নেতৃত্ব কোনো আত্মসমালোচনা করেনি। কেন এই পরাজয়, তা নিয়ে কোনো গঠনমূলক বিশ্লেষণ হয়নি, যা দলের ভবিষ্যতের জন্য বিপজ্জনক। তাঁর মতে, দল ক্রমশ বিজু পট্টনায়কের আদর্শ এবং নবীন পট্টনায়কের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দর্শন থেকে বিচ্যুত হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বর্তমান বিজেডি কাঠামোয় কি দীর্ঘদিনের অনুগত নেতাদের আর কোনো সম্মান বা জায়গা অবশিষ্ট রয়েছে?
যদিও দেবাশিষ সামন্তরায় সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন, তবুও তিনি এখনো দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেননি। বরং নবীন পট্টনায়কের ওপর আস্থা রেখে জানিয়েছেন, দলের পুনরুজ্জীবনের জন্য নবীনই একমাত্র ভরসা। তবে এই বক্তব্যের আড়ালে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, এটি কেবল একটি পদত্যাগ নয়, বরং আসন্ন দলবদলের ইঙ্গিত।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে বিজেডি থেকে বিজেপিতে যোগদানের হিড়িক পড়েছে। বালেশ্বরের প্রাক্তন সাংসদ রবিন্দ্র কুমার জেনা এবং গত বছর রাজ্যসভার সাংসদ অমর পট্টনায়েকের মতো হেভিওয়েট নেতারা দল ছেড়ে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন। অনেক ছোট-বড় নেতাও একই পথে হেঁটেছেন। দেবাশিষের এই পদত্যাগ কি শেষ পর্যন্ত তাঁকেও শাসক দল বিজেপির দিকে ঠেলে দেবে? সেই উত্তরের অপেক্ষায় এখন গোটা ওডিশার রাজনৈতিক অঙ্গন।





