উত্তরাখণ্ডের হিমালয়ের কোলে অবস্থিত জাগ্রত ধাম কেদারনাথ। প্রতি বছর অক্ষয় তৃতীয়া থেকে শুরু হয় পবিত্র চার ধাম যাত্রা। ইতিমধ্যেই ১৯ এপ্রিল গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রী মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। এবার আগামী ২২ এপ্রিল ভোরে সাধারণ ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হবে বাবা কেদারনাথ মন্দিরের দরজা। মন্দির খোলার পর প্রথমেই মহাদেবের বিগ্রহ থেকে সরানো হয় ‘ভীষ্ম শৃঙ্গার’। এই বিশেষ আচারকে কেন্দ্র করে ভক্তদের মধ্যে রয়েছে অপার কৌতূহল।
কী এই ‘ভীষ্ম শৃঙ্গার’?
শীতকালে কেদারনাথ ধাম যখন কয়েক ফুট বরফের তলায় চলে যায়, তখন দীপাবলির সময় থেকে অক্ষয় তৃতীয়া পর্যন্ত মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকে। মন্দির বন্ধ করার ঠিক আগে শিবলিঙ্গের ওপর ৬ লিটার খাঁটি দেশি ঘিয়ের প্রলেপ দেওয়া হয়। এরপর একটি বিশেষ ধরনের সাদা সুতির কাপড় দিয়ে পুরো শিবলিঙ্গটি ঢেকে দেওয়া হয়। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, হাড়কাঁপানো শীত ও বরফের প্রকোপ থেকে শিবলিঙ্গকে রক্ষা করতেই এই বিশেষ ‘ভীষ্ম শৃঙ্গার’ করা হয়। এর ফলে দীর্ঘ কয়েক মাস বন্ধ থাকলেও বিগ্রহের কোনো ক্ষতি হয় না এবং তা প্রাকৃতিক রূপে অটুট থাকে।
পুরোহিতদের বিশেষ ভূমিকা
বাবা কেদারনাথের এই বিশেষ শৃঙ্গার করার অধিকার রয়েছে কেবলমাত্র কর্ণাটকের বীরশৈব লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়ের পুরোহিতদের। মন্দির বন্ধ করার আগে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে প্রায় ৫ ঘণ্টা সময় নিয়ে এই কাজ সম্পন্ন করেন তাঁরা। শৃঙ্গারের পর শিবলিঙ্গকে ‘আর্ঘা’ বা মরসুমি ফল ও ড্রাই ফ্রুটসের ভোগ নিবেদন করে মন্দিরের গর্ভগৃহ সিল করে দেওয়া হয়।
দরজা খোলার নিয়ম
২২ এপ্রিল যখন মন্দিরের দরজা পুনরায় খোলা হবে, তখন এই বীরশৈব লিঙ্গায়েত পুরোহিতরাই সবার আগে ভীষ্ম শৃঙ্গার সরিয়ে দেবেন। এরপর বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে গঙ্গাজল দিয়ে শিবলিঙ্গের অভিষেক করা হবে। পঞ্চামৃত স্নান করানোর পর ভস্ম, চন্দন এবং নতুন ফুলে সাজিয়ে তোলা হবে মহাদেবকে। তারপরই সাধারণ পুণ্যার্থীরা দর্শনের সুযোগ পাবেন। মনে করা হয়, শীতকালের পর প্রথম দর্শনে মহাদেবের এই রূপ দেখা অত্যন্ত ভাগ্যের বিষয়।





