১৯৭২-এর সেই স্মৃতি ফেরাতে চলেছে ব্রিগেড? শুভেন্দুর রাজতিলকে সাক্ষী থাকবেন ২০ জন মুখ্যমন্ত্রী!

বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক নতুন সূর্যোদয়। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ কয়েক দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই প্রথম কলকাতার রাইটার্স কিংবা নবান্নের চাবিকাঠি যাচ্ছে গেরুয়া শিবিরের হাতে। আগামী শনিবার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত হতে চলেছে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের বর্ণাঢ্য শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। একদিকে যখন সাজ সাজ রব শহরজুড়ে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও কড়া নিরাপত্তা বলয়।

এক মঞ্চে নক্ষত্র সমাবেশ

শনিবারের ব্রিগেড যেন আক্ষরিক অর্থেই ‘মিনি ইন্ডিয়া’। বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথের সাক্ষী থাকতে একই মঞ্চে উপস্থিত থাকছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এছাড়াও হাজির থাকবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা এবং বিভিন্ন বিজেপি-শাসিত রাজ্যের অন্তত ২০ জন মুখ্যমন্ত্রী। শিল্পপতি থেকে শুরু করে টলিউডের তারকা ও প্রথিতযশা ক্রীড়াবিদদের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠান এক বিরল রাজনৈতিক মাহেন্দ্রক্ষণ হতে চলেছে।

প্রবীণদের মতে, ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ঐতিহাসিক সভার পর ব্রিগেডে এত বিপুল পরিমাণ ‘ভিভিআইপি’ সমাগম আর কখনও দেখা যায়নি।

নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হচ্ছে শহর

প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং এতজন মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতির কারণে নিরাপত্তায় কোনো ফাঁক রাখতে চাইছে না প্রশাসন।

  • ফোর্স মোতায়েন: প্রায় ৪ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে ব্রিগেড ও সংলগ্ন এলাকায়।

  • যৌথ নজরদারি: কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসপিজি (SPG) পুরো এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

  • নিষেধাজ্ঞা: ব্রিগেডের ভিতরে কোনোভাবেই ছাতা, ব্যাগ বা জলের বোতল নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না।

ঝালমুড়ি-রসগোল্লা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন

বাংলার সংস্কৃতিকে সম্মান জানাতে অনুষ্ঠানের শুরুতেই থাকছে রবীন্দ্রসংগীত ও ছৌ-নৃত্য। অতিথিদের জন্য আপ্যায়নেও থাকছে বাঙালিয়ানা— ঝালমুড়ি ও রসগোল্লার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে বৃষ্টির পূর্বাভাস আয়োজকদের কিছুটা দুশ্চিন্তায় রেখেছে। আবহাওয়া বিরূপ হলে বিকল্প অন্দরমহলের পরিকল্পনাও সেরে রাখা হয়েছে।

ট্রাফিক আপডেট: বেরোনোর আগে দেখে নিন

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শনিবার ভোর ৪টে থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

  • বন্ধ থাকছে যেসব রাস্তা: এসপ্ল্যানেড রো, কিডারপুর রোড, কুইন্সওয়ে, ক্যাসুয়ারিনা অ্যাভিনিউ এবং হসপিটাল রোডে যান চলাচল সীমিত থাকবে।

  • পণ্যবাহী যান: এই সময়ে কোনো মালবাহী ট্রাক শহরে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

  • মেট্রো: রাস্তায় ভোগান্তি এড়াতে মেট্রো পরিষেবাই হবে সবথেকে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম, কারণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে মেট্রো চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।

বাংলার ক্ষমতার এই পালাবদল কি সাধারণ মানুষের জীবনে নতুন দিশা আনবে? উত্তর মিলবে শনিবারের সেই মাহেন্দ্রক্ষণেই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy