দীর্ঘদিন ধরে চলা টালবাহানা আর বঞ্চনার অবসান। অবশেষে ১০০ দিনের কাজের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পুলিশের জালে ধরা পড়ল তৃণমূলের এক দাপুটে নেতা তথা কাজের সুপারভাইজার গৌতম বৈদ্য। উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদ থানার খাঁপুকুর এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অভিযোগ, সাধারণ মানুষের হাড়ভাঙা খাটুনির টাকা লুট করে নিজে ফুলেফেঁপে উঠেছিলেন এই তৃণমূল নেতা।
স্থানীয় সূত্রের খবর, রাজ্যে যখন ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প চালু ছিল, সেই সময় খাঁপুকুর এলাকার দায়িত্বে ছিলেন গৌতম বৈদ্য। অভিযোগ, এলাকার প্রায় তিন শতাধিক জব কার্ড হোল্ডারকে দিয়ে তিনি কঠোর পরিশ্রম করিয়েছিলেন। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পর অধিকাংশ শ্রমিকই তাঁদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হন। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, মাসের পর মাস বকেয়া মজুরির জন্য ওই নেতার কাছে ধর্না দিলেও, পরিবর্তে মিলেছে হুমকি এবং চোটপাট। ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক দাপটের জোরে তিনি সাধারণ মানুষের মুখ বন্ধ করে রেখেছিলেন।
তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সরকার গঠনের পরই পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হয়। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এক লহমায় বেরিয়ে আসে। খাঁপুকুরের কয়েকশো বঞ্চিত জব কার্ড হোল্ডার একজোট হয়ে গৌতম বৈদ্যকে ঘিরে ধরে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হাসনাবাদ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নেতাকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে। পরে গ্রামবাসীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।
ভুক্তভোগী বাসিন্দা বিধান মণ্ডল ক্ষোভের সুরে বলেন, “আমরা কাজ করেছি, অথচ কোনো টাকাপয়সা পাইনি। আমাদের না জানিয়েই জব কার্ডে জালিয়াতি করে সেই টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। খাতায়-কলমে সব টাকা পরিশোধ দেখালেও, বাস্তবে শ্রমিকরা এক পয়সাও পাননি। গৌতমই এই পুরো জালিয়াতির মাস্টারমাইন্ড।” অপর এক বাসিন্দা অতসী মণ্ডলের অভিযোগ, জব কার্ড করে দেওয়ার নাম করে তাঁর কাছ থেকে ২০০০ টাকা ঘুষও নিয়েছিলেন ওই নেতা। শুধু তাই নয়, কার্ডের তথ্যেও কারচুপি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
স্থানীয় বিজেপির হিঙ্গলগঞ্জ ২ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক মানস মণ্ডলের দাবি, তৃণমূল জমানায় সুপারভাইজাররা সাধারণ মানুষকে শোষণ করেছে। হাসনাবাদের বিভিন্ন এলাকায় মানুষ এখন নিজেরাই তাদের টাকা উদ্ধারে পথে নেমেছে। এই গ্রেফতারি তারই প্রতিফলন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। তবে এ নিয়ে এসডিপিও ওমর আলি মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও, তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। দুর্নীতিগ্রস্ত নেতার গ্রেফতারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই খাঁপুকুরে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস বয়ে যাচ্ছে।





