রাজ্যে তৃণমূল সরকারের পতনের পর থেকেই দুর্নীতির একের পর এক কঙ্কাল বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। বালি, কয়লা বা গরু পাচার নয়, এবার খোদ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারকে (OT) চুরির মাল লুকিয়ে রাখার সেফ হাউস হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পূর্ব বিধানসভার মঠেরদীঘি গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা এবং সোনার গয়না উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অভিযোগের আঙুল ক্যানিংয়ের দাপুটে নেতা শওকত মোল্লা ঘনিষ্ঠ এক তৃণমূল নেতার দিকে।
বিজেপির দাবি, তাঁদের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে যে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে একটি সন্দেহভাজন ব্যাগ লুকিয়ে রাখা হয়েছে। গতকাল স্থানীয় বিজেপি নেতারা হাসপাতালে পৌঁছে ওটি-তে তল্লাশি চালালে একটি ট্রলি ব্যাগ দেখতে পান। সেখানে উপস্থিত এক চিকিৎসককে ব্যাগের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি। এরপর ব্যাগটি খোলা হলে দেখা যায়, ভেতরে রয়েছে নগদ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং প্রচুর সোনার গয়না।
বিজেপির সরাসরি অভিযোগ, ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ নেতা হোসেন শেখ এই বিপুল সম্পত্তি চুরি করে হাসপাতালে লুকিয়ে রেখেছিলেন। আর এই কাজে তাঁকে প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করেছেন হাসপাতালেরই এক চিকিৎসক এবং জনৈক অ্যাম্বুলেন্স চালক। ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জীবনতলা থানার পুলিশ। এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে চিকিৎসক শাহরুখ শেখ এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক রফিকুল ইসলাম মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
তৃণমূল সরকার ক্ষমতা থেকে সরার পর যেভাবে সরকারি পরিষেবা কেন্দ্রগুলিকে দুর্নীতির আখড়া হিসেবে ব্যবহারের তথ্য সামনে আসছে, তাতে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে। বিজেপি নেতাদের দাবি, “হাসপাতাল যেখানে মানুষের প্রাণ বাঁচানোর জায়গা, সেখানে তৃণমূলের নেতারা সেটিকে চুরির ধন রাখার গোডাউন বানিয়ে ফেলেছেন।” এই চাঞ্চল্যকর উদ্ধার নিয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ তদন্ত করে দেখছে এই চক্রের জাল আর কতদূর বিস্তৃত এবং হোসেন শেখের সঙ্গে ধৃতদের ঠিক কী সম্পর্ক ছিল।





