দেশের ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে ফের একবার বড়সড় ধাক্কা। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের কড়া নিয়মের বেড়াজালে পড়ে লাইসেন্স খোয়াতে বসল আরও একটি ব্যাঙ্ক। সমস্ত নিয়ম-কানুন ও নির্দেশিকা অমান্য করার অপরাধে এবার মুম্বইয়ের ‘সর্বোদয় কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক’ (Sarbodaya Co-Operative Bank)-এর লাইসেন্স পাকাপাকিভাবে বাতিল করে দিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI)। এর ফলে ব্যাঙ্কটির সমস্ত রকম আর্থিক লেনদেন ও পরিষেবা স্তব্ধ হয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই এই খবরে চরম উদ্বেগে পড়েছেন ব্যাঙ্কের সাধারণ গ্রাহকরা।
হঠাৎ কেন এই কড়া পদক্ষেপ?
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার তরফ থেকে জারি করা একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ব্যাঙ্কিং রেগুলেশন অ্যাক্ট ১৯৪৯-এর আওতাধীন নিয়মগুলি যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে এই কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কটি। পর্যাপ্ত মূলধনের অভাব এবং ভবিষ্যতে উপার্জনের সঠিক দিশা না থাকায়, গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতেই এই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ১২ মে থেকেই ব্যাঙ্কের যাবতীয় কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ করার নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে।
আরবিআই-এর কড়া নির্দেশিকায় সাফ বলা হয়েছে, সর্বোদয় কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক এখন থেকে আর নতুন করে কোনো ডিপোজিট বা আমানত গ্রহণ করতে পারবে না। এমনকি পুরনো ডিপোজিটের রিপেমেন্ট বা টাকা ফেরতের প্রক্রিয়াও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সংশ্লিষ্ট সমবায় নিয়ামক সংস্থার কাছে আবেদন জানিয়েছে, যাতে দ্রুত এই ব্যাঙ্কটি বন্ধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে একজন ‘লিক্যুইডেটর’ বা অবসায়ক নিয়োগ করা হয়।
গ্রাহকদের জমা টাকার ভবিষ্যৎ কী?
ব্যাঙ্ক বন্ধের খবর আসতেই গ্রাহকদের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— কষ্টার্জিত জমানো পুঁজি কি তবে একঝটকায় শেষ? তবে এই পরিস্থিতিতে আমানতকারীদের আশ্বস্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।
আরবিআই-এর নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যাঙ্কের লাইসেন্স বাতিল বা অবলুপ্তি ঘটলে গ্রাহকরা তাঁদের জমা টাকার বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমা বা ইন্সুরেন্স ক্লেম করতে পারেন। এই অর্থ দেওয়া হয় ‘ডিপোজিট ইন্সুরেন্স অ্যান্ড ক্রেডিট গ্যারান্টি কর্পোরেশন’ (DICGC)-এর মাধ্যমে।
ব্যাঙ্কের দেওয়া বর্তমান আর্থিক খতিয়ান খতিয়ে দেখে জানানো হয়েছে, এই ব্যাঙ্কের প্রায় ৯৮.৩৬ শতাংশ আমানতকারীই তাঁদের জমা রাখা সম্পূর্ণ টাকাই ডিআইসিজিসি-র মাধ্যমে ফেরত পেয়ে যাবেন। স্বস্তির বিষয় এই যে, ইতিমধ্যেই ডিআইসিজিসি-র পক্ষ থেকে প্রায় ২৬.৭২ কোটি টাকা গ্রাহকদের ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে বড় অঙ্কের আমানতকারী ছাড়া, সাধারণ ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের টাকা ডুবে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই বলেই জানা যাচ্ছে।





