রাজ্যের ক্ষমতায় এসেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে বড়সড় পদক্ষেপ নিল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকার। এবার এ রাজ্যের সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এক যুগান্তকারী সুখবর নিয়ে এল নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পূর্ব ঘোষণা মতোই, এবার রাজ্যে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সের ঊর্ধ্বসীমা একধাক্কায় ৫ বছর বৃদ্ধি সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী, যাঁরা এতদিন বয়সের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দিন গুনছিলেন।
কোন পদে বয়সের ছাড় কতটা?
রাজ্যের অর্থ দফতরের অডিট শাখার পক্ষ থেকে জারি করা নতুন নির্দেশিকা (West Bengal Job Age Limit Increase) অনুযায়ী, রাজ্য সরকারি চাকরির বিভিন্ন স্তরে তথা গ্রুপ এ, বি, সি এবং ডি—প্রতিটি ক্যাটাগরিতেই আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। দেখে নেওয়া যাক নতুন নিয়ম:
গ্রুপ এ (Group A): এই স্তরের চাকরিতে আবেদনের জন্য সর্বোচ্চ বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে ৪১ বছর করা হয়েছে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, গ্রুপ এ-র কোনো নির্দিষ্ট পদের চাকরিতে আবেদনের বয়স যদি আগে থেকেই ৪১ বছরের বেশি নির্ধারিত থাকে, তবে সে ক্ষেত্রে পূর্বের নিয়মই বহাল থাকবে, কোনো বদল হবে না।
গ্রুপ বি (Group B): এই ক্যাটাগরির পদগুলিতে আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি করে এখন ৪৪ বছর করা হয়েছে।
গ্রুপ সি এবং ডি (Group C & D): সবচেয়ে বড় চমক এসেছে এই দুই স্তরে। গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি পদের চাকরিতে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা একধাক্কায় বাড়িয়ে ৪৫ বছর করে দিয়েছে রাজ্য সরকার।
কবে থেকে কার্যকর হচ্ছে এই নিয়ম?
নবান্নের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই নতুন নিয়মটি গত ১১ মে থেকেই রাজ্যজুড়ে কার্যকর বলে গণ্য করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর গত ১১ মে-ই শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক বসেছিল। সেই প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই বেকারদের স্বার্থে সরকারি চাকরির বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছর বাড়ানোর এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় এবং সেদিন বিকেলেই নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে এই সুখবরটি জনসমক্ষে এনেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী।
কেন এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত?
রাজ্যে ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই বেকারত্ব দূরীকরণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে নিজেদের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হিসেবে তুলে ধরেছিল বিজেপি। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই তার বাস্তব প্রতিফলন মিলল।
এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন যে, বিগত ২০১৫ সালের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে সরকারি ক্ষেত্রে সেভাবে বড় কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। ফলে এই দীর্ঘ এক দশকের বঞ্চনা এবং নিয়োগ দুর্নীতির জেরে রাজ্যের বহু যোগ্য ও শিক্ষিত যুবক-যুবতীর সরকারি চাকরিতে বসার নির্ধারিত বয়স অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছে। তাঁদের প্রতি হওয়া এই ঐতিহাসিক অন্যায়ের বিচার করতেই এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করে নতুন সুযোগ দিতে বর্তমান সরকার এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন রাজ্যের আপামর চাকরিপ্রার্থী মহল।





