২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণক্ষেত্র প্রথম দফাতেই এক ঐতিহাসিক নজির গড়ে ফেলল। সমস্ত জল্পনা উসকে দিয়ে প্রথম দফায় বাংলায় ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৯৩.১৯ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া চূড়ান্ত এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এটি স্বাধীনতার পর থেকে এখনও পর্যন্ত বাংলায় হওয়া যেকোনো বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সর্বকালীন রেকর্ড। প্রথম দফার এই বিপুল ভোটদান আদতে কার পক্ষে যাবে— শাসক নাকি বিরোধী— তা নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণে ব্যস্ত রাজনৈতিক মহল।
রেকর্ড ভাঙা পরিসংখ্যান: শনিবার নির্বাচন কমিশন প্রথম দফার চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করেছে। এর আগে ২০১১ সালের পরিবর্তনে বাংলায় ভোট পড়েছিল ৮৪.৩৩ শতাংশ। কিন্তু এবার সেই রেকর্ডকে অনেক পেছনে ফেলে দিয়ে প্রায় ৯৩ শতাংশের গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলল বাংলা। কমিশনের দাবি, বাংলায় গণতান্ত্রিক সচেতনতা যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, এই পরিসংখ্যান তারই প্রমাণ।
জেলাভিত্তিক চমক: প্রথম দফায় ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী:
দক্ষিণ দিনাজপুর: ৯৪.৯৮% (সর্বোচ্চ)
কোচবিহার: ৯৪.৭৫%
বীরভূম: ৯৩.৮৮%
মুর্শিদাবাদ: ৯৩.০৭%
উত্তরের জেলাগুলি থেকে শুরু করে দক্ষিণের বীরভূম বা মেদিনীপুর— সর্বত্রই মানুষের ঢল ছিল চোখে পড়ার মতো। আবহাওয়া দপ্তরকে হার মানিয়ে মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে ‘পরিবর্তনের ইঙ্গিত’ বলে দাবি করছে বিজেপি, অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি— সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলির ওপর মানুষের আস্থা আরও বেড়েছে।
রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বিপুল ভোটদানকে ‘সিন্ডিকেট রাজের শেষের শুরু’ বলে কটাক্ষ করেছেন। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, “মানুষ নিজেদের ভোট দেওয়ার অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে সামিল হয়েছেন বলেই এই ভিড়।” বিরোধীদের আশঙ্কা, এত বিপুল ভোটদান কি কেবল স্বতঃস্ফূর্ত, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো সমীকরণ কাজ করছে?
কমিশনের কড়া নজরদারি: প্রথম দফায় বিচ্ছিন্ন কিছু অশান্তির খবর মিললেও, কমিশনের দাবি— ওয়েবকাস্টিং এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে ভোটদান প্রক্রিয়া যথেষ্ট সুশৃঙ্খল ছিল। উচ্চ ভোটদানের হার দেখে দ্বিতীয় দফার নিরাপত্তার ঘেরাটোপ আরও মজবুত করার পরিকল্পনা করছে কমিশন।
এখন দেখার, ৪ মে গণনার দিন ইভিএম (EVM) থেকে কার পক্ষে জনসমর্থন উপচে পড়ে।





