স্বরূপের বাড়িতে ‘ডিজিটাল রহস্য’! তালা ভাঙতে হিমশিম পুলিশ, উদ্ধার গুপ্তঘর!

টলিপাড়ার ‘ডন’ হিসেবে পরিচিত স্বরূপ বিশ্বাসের বাড়িতে পুলিশি তল্লাশি ঘিরে তৈরি হয়েছে থ্রিলার সিনেমার মতো পরিস্থিতি। তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি ও খুনের চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর, এবার স্বরূপকে সঙ্গে নিয়েই তাঁর বেহালার সাহাপুরের বাড়িতে হানা দিল পুলিশের বিশাল বাহিনী। আর সেই তল্লাশিতেই বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

লকার খুলছে না, বাড়ছে রহস্য: তদন্তকারীদের নজরে ছিল স্বরূপের বাড়ির একটি ডিজিটাল লকার। ধারণা করা হচ্ছে, এই লকারের ভেতরেই লুকিয়ে রয়েছে স্বরূপের সাম্রাজ্যের যাবতীয় কুকীর্তি ও আর্থিক দুর্নীতির গোপন নথি। লকারটি খোলার জন্য ডেকে আনা হয় বিশেষজ্ঞ মিস্ত্রিকে, কিন্তু দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরেও তা খোলা সম্ভব হয়নি। মিস্ত্রি সাফ জানিয়েছেন, ডিজিটাল লকের প্রযুক্তি তার নাগালের বাইরে। লকার না খোলায় গোয়েন্দাদের মনে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

বাড়িতেই ‘গুপ্তঘর’! তল্লাশি চালাতে গিয়ে পুলিশ বাড়ির অন্দরে একটি গোপন কুঠুরি বা ‘গুপ্তঘর’-এর সন্ধান পেয়েছে। স্টুডিও পাড়ায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারকারী স্বরূপ বিশ্বাসের এই বিলাসবহুল বাড়ির ভেতর এমন গোপন কক্ষ কেন ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। অবৈধ লেনদেন কিংবা অন্য কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের আস্তানা কি এটিই? উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

প্রভাবশালী স্বরূপের পতন: কাউন্সিলর বা বিধায়ক না হয়েও স্বরূপ বিশ্বাস যেভাবে টলিপাড়ায় শুটিং বন্ধ করা, অভিনেতা-প্রযোজকদের ‘ব্যান’ করার মতো সিদ্ধান্ত নিতেন, তা দীর্ঘদিন ধরেই ছিল আলোচনার বিষয়। ৪ জুন গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তাঁর প্রভাবের ভিত নড়বড়ে হয়ে গেছে। অন্যদিকে, এই ঘটনায় নিজেকে বাঁচাতে মরিয়া দাদা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস আদালতের কাছে ‘রক্ষাকবচ’ চেয়ে আবেদন করেছেন।

নিরাপত্তার কড়াকড়ি: পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না যায়, সেজন্য নিউ আলিপুর থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও সেন্ট্রাল ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। স্বরূপ বিশ্বাসকে সামনে বসিয়েই এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে, যাতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ নষ্ট না হয়।

এই লকার থেকে কী বের হয়, আর স্বরূপের এই ‘গোপন সাম্রাজ্য’ থেকে আর কত কী তথ্য প্রকাশ্যে আসে—এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy