বঙ্গ রাজনীতির করিডোরে এখন সবথেকে বড় আলোচনার বিষয়—তৃণমূলের অন্দরের ভাঙন। লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে রাজ্যের শাসকদলের অস্বস্তি যে ক্রমশ বাড়ছে, তার প্রমাণ মিলল তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সাম্প্রতিক এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে। দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, তা রাজনৈতিক মহলে একপ্রকার ‘বোমা’ ফাটানোর মতোই।
সাক্ষাৎকারে কী বললেন কাকলি? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের সংসদীয় দলের অন্দরেও এখন বিভাজনের সুর স্পষ্ট। কাকলি ঘোষ দস্তিদার তাঁর সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে দলের বর্তমান নেতৃত্বের কর্মপদ্ধতি নিয়ে যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, তা থেকে স্পষ্ট যে, অনেক সাংসদই এখন দিল্লির নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে আগ্রহী।
NDA-র দিকে ঝুঁকে কি তৃণমূল? এনডিএ (NDA)-র অংশ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সরাসরি উত্তর না দিলেও, কাকলির মন্তব্যে স্পষ্টভাবে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের ইঙ্গিত মিলেছে। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যের মানুষের উন্নয়নের স্বার্থে প্রয়োজনে যেকোনো দলের সঙ্গে কাজ করতে তিনি পিছপা নন।
সংসদীয় দলে বিদ্রোহের গুঞ্জন: কেবল কাকলি নয়, তৃণমূলের একাধিক সাংসদ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর থেকে আস্থা হারাচ্ছেন বলে খবর। গত কয়েক দিনে দিল্লির বৈঠকে তাঁদের অনুপস্থিতি এবং বিরোধী শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা সেই জল্পনাকেই আরও উসকে দিয়েছে।
তৃণমূলের অস্বস্তি: রাজ্যের ক্ষমতা পরিবর্তনের পরেই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর সক্রিয়তা এবং দলের অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তৃণমূলের ভিতকে অনেকটা নড়বড়ে করে দিয়েছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো হেভিওয়েট সাংসদের এই ধরণের মন্তব্য দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে কার্যত কোণঠাসা করে ফেলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই সাক্ষাৎকারের পর তৃণমূলের অন্দরে বড় কোনো রদবদল বা দলবদলের নাটক কেবল সময়ের অপেক্ষা। এনডিএ-র সঙ্গে তৃণমূলের এই সম্ভাব্য ‘ঘনিষ্ঠতা’ বাংলার রাজনীতিতে কি নতুন কোনো সমীকরণের জন্ম দেবে? উত্তর খুঁজছে রাজ্যবাসী।





