রাজ্যের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আঁচ এসে লেগেছে টলিপাড়ার অন্দরে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ফেডারেশনের একাধিপত্য এবং দুর্নীতির অভিযোগের আবহে এবার বড়সড় সিদ্ধান্তের পথে হাঁটলেন বিধায়ক ও অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী। বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করলেন যে, বিদ্যমান ফেডারেশন ব্যবস্থা আর থাকছে না। তার পরিবর্তে কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা মেনে তৈরি হবে নতুন ‘কনফেডারেশন’, যা পুরো ইন্ডাস্ট্রিকে এক ছাতার তলায় নিয়ে আসবে।
দীর্ঘদিন ধরেই টলিপাড়ার প্রযোজক ও পরিচালকদের অন্যতম মাথাব্যথার কারণ ছিল ফেডারেশনের কঠোর নিয়মাবলী। স্বরূপ বিশ্বাসের নেতৃত্বাধীন ফেডারেশনের বিরুদ্ধে সবথেকে বড় অভিযোগ ছিল, কাজের প্রয়োজন না থাকলেও নির্দিষ্ট সংখ্যক টেকনিশিয়ান নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। এই নিয়ম স্বল্প বাজেটের প্রযোজকদের জন্য ছিল চরম আতঙ্কের। বহুবার দরবার করেও এর কোনো সুরাহা না মেলায় প্রযোজক মহলে ক্ষোভ দানা বেঁধেছিল। তবে এবার ছবিটা বদলাচ্ছে। পাপিয়া অধিকারীর সঙ্গে প্রযোজকদের বৈঠকে নেওয়া হয়েছে একাধিক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।
বৈঠক শেষে প্রযোজক ও বিধায়ক উভয়ই দাবি করেছেন যে, এই নতুন ব্যবস্থায় কাজের পরিবেশ অনেক বেশি স্বচ্ছ ও স্বাধীন হবে। এখন থেকে প্রযোজকরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী টেকনিশিয়ান নিয়োগ করতে পারবেন। ছোট বা স্বল্প বাজেটের ছবির ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় বাড়তি কর্মী নিয়োগের বাধ্যবাধকতা আর থাকবে না। এর পাশাপাশি, সিরিয়াল ও সিনেমার ক্ষেত্রে পরিচালক এবং প্রযোজকদের গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে চ্যানেলগুলির সঙ্গে কেবল পরিচালক নয়, প্রযোজকরাও সরাসরি আলোচনা করার সুযোগ পাবেন। পাপিয়া অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, “প্রযোজকদের ওপর আর কোনো অহেতুক চাপ থাকবে না। নতুন বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে এবং ইন্ডাস্ট্রির হৃত গৌরব ফেরাতে আমরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাই।”
তবে এই পরিবর্তন মেনে নিতে নারাজ একাংশ। বৃহস্পতিবার সকালে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে মেকআপ আর্টিস্টদের একাংশ টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে বিভ্রান্তি ও বহিরাগতদের সঙ্গে বিক্ষিপ্ত ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “যারা গোলমাল করছে, তারা মূলত ‘ফ্র্যাঙ্কেস্টাইন’-এর মতো আচরণ করছে। এতদিন পর কেন্দ্রের সঙ্গে একযোগে কাজ করার এক ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে। আমরা দুর্নীতিমুক্ত, নিয়মবদ্ধ এক আধুনিক টলিউড গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি। কিছু মানুষ পুরনো দুর্নীতির সাম্রাজ্য ধরে রাখতে এই ধরনের হাঙ্গামা করছে, যা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”
সব মিলিয়ে, টলিপাড়ার এই পালাবদল সিনেমা ও সিরিয়াল জগতের জন্য এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করতে চলেছে। প্রযোজকদের এই স্বস্তি কি বাংলা চলচ্চিত্রকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





