‘মমতা না থাকলে অস্তিত্বই থাকত না!’ তৃণমূল নেতাদের তীব্র কটাক্ষ বিজেপির রাজ্য সভাপতির

তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন এবং দলের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে এবার তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর সাম্প্রতিক এক মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে শমীক ভট্টাচার্যকে বলতে শোনা গেছে, তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান অনেক নেতা-নেত্রী যদি কংগ্রেসে থাকতেন, তবে তাঁদের কাউন্সিলর হওয়ার মতো যোগ্যতাও থাকত না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের নেতা ও নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যা একান্তই তাঁদের ‘আভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

উল্লেখ্য, কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের প্রেক্ষাপট আজও রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চার বিষয়। শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই বহু মানুষ যারা রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে সাধারণ স্তরে ছিলেন, তাঁরা আজ ক্ষমতার কেন্দ্রে। তিনি অত্যন্ত কটাক্ষের সুরে জানিয়েছেন, তৃণমূলের একটি বড় অংশের নেতাকর্মীর রাজনৈতিক জন্ম ও পরিপক্বতা কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর নির্ভরশীল। তাঁর মতে, কংগ্রেসের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী দলে থাকাকালীন এই ব্যক্তিদের যে রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা ছিল, তৃণমূল গঠনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের সেই গণ্ডি পেরিয়ে বড় উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন।

শমীকবাবুর এই মন্তব্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অত্যন্ত গভীর। লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের ডামাডোলের পর থেকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং দলত্যাগ নিয়ে রাজ্য রাজনীতি সরগরম। বিজেপির অন্দরে এই ভিডিও নিয়ে যেমন চর্চা চলছে, তেমনই তৃণমূলের অন্দরেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক অস্বস্তি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শমীক ভট্টাচার্য এই মন্তব্যের মাধ্যমে তৃণমূলের একনিষ্ঠ অনুগত হওয়ার দাবির ওপরই বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, বর্তমানে যারা তৃণমূলের বড় নেতা হিসেবে নিজেদের জাহির করেন, তাঁদের কোনো নিজস্ব রাজনৈতিক ভিত্তি নেই, বরং তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশীর্বাদপুষ্ট বলেই আজ এই অবস্থায় রয়েছেন।

তৃণমূল শিবিরের একাংশ অবশ্য এই মন্তব্যকে বিজেপির ‘হতাশা’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, তৃণমূলের উত্থান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংগ্রামের ফল, আর শমীক ভট্টাচার্যের মতো নেতারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ধ্রুবতারাকে সহ্য করতে পারছেন না বলেই এসব মন্তব্য করছেন। তবে শমীকবাবুর ভিডিওটি যেভাবে ভাইরাল হয়েছে, তাতে এটি স্পষ্ট যে রাজ্যের সাধারণ মানুষ তৃণমূলের অন্দরের এই সমীকরণ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন।

আগামী দিনে এই রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হতে চলেছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। শমীক ভট্টাচার্যের এই বক্তব্যের পর তৃণমূলের তরফে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও, দলের অন্দরে যে চরম ক্ষোভ ও অস্থিরতা কাজ করছে, তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও থেকেই পরিষ্কার। রাজনীতির ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘নির্মাণ’ কীভাবে বিজেপির মোকাবিলা করবে, সেটাই এখন দেখার বড় বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy