টলিউডের অঘোষিত ‘ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে পরিচিত স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে দানা বাঁধল চরম বিতর্ক। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর ভাইয়ের বিরুদ্ধে এক মহিলা মেকআপ আর্টিস্টের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও হেনস্থার অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর, তাঁকে গ্রেফতার করল নিউ আলিপুর থানার পুলিশ। স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, অস্ত্র আইন এবং খুনের চেষ্টার মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শুক্রবার তাঁকে আলিপুর আদালতে পেশ করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে টলিউডে নানা ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা ও দাদাগিরির অভিযোগ উঠছিল। গতকাল রাতে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতারের পর আজ নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই নিরাপত্তার খাতিরে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। আইনজীবী এবং বিবাদী পক্ষের দাবি, গত ১৫ বছর ধরে স্বরূপ বিশ্বাসের ভয়ে মুখ খোলার সাহস পাননি অনেকে। অভিযোগকারিণীর বয়ানেই স্পষ্ট হয়েছে, কীভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে টলিপাড়ার শিল্পীদের ওপর অত্যাচার চালানো হয়েছে।
আদালত চত্বরে স্বরূপ বিশ্বাসকে দেখে আইনজীবীদের মন্তব্য, “আজ তাঁকে ঠিক সেই জায়গাতেই দেখা গেল, যেখানে একজন অপরাধীর থাকা উচিত। অতীতে যারা মানুষের ওপর অকথ্য অত্যাচার করেছে, আজ তাদেরই ফল ভোগ করার সময় এসেছে।” আদালতে পেশ করার সময় স্বরূপ বিশ্বাসের শারীরিক অবস্থা ও হাবভাব ছিল অনেকটাই ম্রিয়মাণ, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়েছে।
এই ইস্যুতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সরব হয়েছেন। তিনি বলেন, “স্বরূপ বিশ্বাস একসময় টলিউড নিয়ন্ত্রণ করতেন, তাঁর অঙ্গুলি হেলনেই সবকিছু চলত। তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ, তা প্রশাসন দেখবে। তবে বিজেপি কোনো ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা, আগ্রাসন এবং শিল্পীর সত্ত্বা অবমাননার বিরুদ্ধে বরাবরই সরব।”
পুলিশ সূত্রে খবর, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বরূপ বিশ্বাসকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হতে পারে। গতকাল রাতে নিউ আলিপুর থানার সামনে যেভাবে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি এড়াতেই আজ কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে তাঁকে আদালতে পেশ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, এই গ্রেফতারির মাধ্যমে টলিউডের দীর্ঘদিনের ‘ভয়ের সংস্কৃতি’ ভাঙার ইঙ্গিত দিচ্ছে পুলিশি তদন্ত। মেকআপ আর্টিস্টের এই অভিযোগ শুধু আইনি লড়াই নয়, বরং শিল্পীদের আত্মমর্যাদা রক্ষার এক লড়াই হিসেবেও দেখা হচ্ছে। আপাতত গোটা টলিপাড়ার নজর এখন আলিপুর আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকে।





