সামনে জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা। উৎসবের সেই পুণ্যলগ্নে নিজের দীর্ঘদিনের সুপ্ত বাসনা ও ভক্তিকে রূপ দিতে অনন্য এক উদ্যোগ নিয়েছেন কল্যাণীর বাসিন্দা পরিমল বাড়ৈ। পেশায় কাঠমিস্ত্রি পরিমলবাবু এবার নিমকাঠের নিখুঁত খোদাইয়ে তৈরি করছেন জগন্নাথদেবের আস্ত এক বিগ্রহ। তাঁর এই নিষ্ঠাপূর্ণ প্রয়াস ইতিমধ্যেই স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও প্রশংসার জন্ম দিয়েছে।
দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে কাঠের আসবাবপত্র ও ঘর সাজানোর নানা কারুকাজ করে এলেও, দেবমূর্তি নির্মাণের মতো বড় চ্যালেঞ্জ এর আগে কখনও নেননি পরিমলবাবু। তবে চলতি বছরের স্নানযাত্রার আবহে তিনি নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে চেয়েছেন। সম্পূর্ণ নিজের আগ্রহ এবং আধ্যাত্মিক টানেই তিনি শুরু করেছেন এই বিগ্রহ তৈরির কাজ। পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি দেবমূর্তি গড়ার ক্ষেত্রে তাঁর এই প্রথম প্রয়াসটি অত্যন্ত যত্নশীল ও শ্রমসাধ্য।
পরিমলবাবু জানান, নিমকাঠ নির্বাচন থেকে শুরু করে মূর্তির প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ খোদাই করা—সবটাই তিনি করছেন অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে। বর্তমানে মূর্তিটির রূপায়ণের কাজ প্রায় শেষের পথে। যদিও সূক্ষ্ম কারুকার্য ও রঙের অলংকরণের জন্য এখনও বেশ কিছু কাজ বাকি। পরিমলবাবুর কথায়, মূর্তিটি পূর্ণতা দিতে আরও অন্তত দশ দিন সময় লাগবে। চলতি মাসের শেষেই পালিত হবে এই বছরের স্নানযাত্রা পার্বণ, তার আগেই তিনি কাজ শেষ করতে বদ্ধপরিকর।
পরিমলবাবুর এই কর্মস্থলে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় মানুষ। একজন সাধারণ কাঠমিস্ত্রির হাত ধরে এমন শিল্পকর্মের সৃষ্টি দেখে মুগ্ধ সবাই। পরিমলবাবুর এই সৃষ্টি শুধু ধর্মীয় ভাবাবেগকেই জাগ্রত করছে না, বরং বাংলার ঐতিহ্যবাহী কাঠশিল্পের নিপুণতাকে আবারও নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরছে। শিল্পী জানান, এই বিগ্রহটি তাঁর প্রথম সৃষ্টি হওয়ায় এর সঙ্গে এক গভীর আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। তাই আপাতত তিনি এটি নিজের কাছেই সংরক্ষণ করতে চান। তবে ভবিষ্যতে কোনো ভক্ত বা সংগ্রাহক যদি এটি পেতে আগ্রহ প্রকাশ করেন, সেক্ষেত্রে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
স্নানযাত্রার প্রাক্কালে একজন সাধারণ মানুষের এই সৃজনশীলতা প্রমাণ করে যে, ভক্তি আর নিষ্ঠা থাকলে সাধারণ হাতেও ফুটে উঠতে পারে দেবতুল্য সৌন্দর্য। পরিমল বাড়ৈয়ের এই উদ্যোগ কল্যাণীর বুকে এক অন্যরকম উৎসবের আবহ তৈরি করেছে, যা শিল্পের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাকে নতুন করে উসকে দিচ্ছে।





